ছিটমহলে আনন্দের জোয়ার

ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হল ছিটমহলবাসী । গত বৃহস্পতিবার ভারতের লোকসভায় স্থল সীমান্ত চুক্তি বিলটি পাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ছিটমহলবাসীর দাবি পূরণের কাঙ্ক্ষিত প্রক্রিয়া। বিলটি পাসের পর এ ছিটমহল থেকে ও ছিটমহলে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দের জোয়ার।

 
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, শুক্রবার ভারতীয় ১৫০ নং দাসিয়ারছড়া ছিটমহলে গিয়ে দেখা গেছে উত্সবের আমেজ। একে অন্যকে মিষ্টি খাইয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করছে। শিশু কিশোররা জাতীয় পতাকা হাতে ঢোলক বাজিয়ে সঙ সেজে নেচে গেয়ে আনন্দ করছে। জুম্মার নামাজ ও মিলাদ শেষে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করছেন অনেকে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও শাঁখ বাজিয়ে, উলুধ্বনি দিয়ে মন্দিরে পূজা অর্চনা করেন। বিজয় উদযাপনে কালির হাটে বৈঠক করেছেন তারা। এখানকার অধিবাসীরা বলেন, আমরা এতদিন অধিকার বঞ্চিত ছিলাম। পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্তির এ আনন্দের চেয়ে আমাদের কাছে বেশি আনন্দের আর কিছু হতে পারে না।
 
এ আনন্দঘন অবস্থা বিরাজ করছে কুড়িগ্রামের ১২টি ছিটমহলে। ভারত বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির দাসিয়ারছড়া ইউনিটের সভাপতি আলতাফ হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের কূটনৈতিক সাফল্যে অধরা স্বপ্ন অবশেষে ধরা দিল। ভারত বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির কেন্দ্রীয় সহ সম্পাদক দীপ্তিমান সেন গুপ্ত বলেন, এ জয় শুধু ছিটবাসীদের নয়, এ জয় গণতন্ত্রের।
 
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, সীমান্ত চুক্তির বিল পাস হবার পর ছিটমহলে চলছে বাংলাদেশি পতাকা নিয়ে আনন্দ মিছিল আর মিষ্টি বিতরণ। মণ মণ দই মিষ্টি আর জিলাপী বিলি করছেন তারা। তাদের আনন্দে শরীক হচ্ছে ছিটের পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশি এলাকার মানুষরাও।
 
গতকাল শুক্রবার সকালে পঞ্চগড় জেলা সদরে অবস্থিত ভারতীয় গারাতি ছিটমহলে গিয়ে দেখা গেছে এমন উদযাপন। মাঠের কাজ ফেলে সবাই আড্ডা দিচ্ছে গাছতলার সবুজ ঘাসের উপর বসে। তারা আগামীর দিনগুলো নিয়ে ভাবা শুরু করেছে। কি হয়েছে আর কি হবে এগুলো ছিল তাদের আলোচনার মুখ্য বিষয়।
 

গারাতি শালবাগান এলাকার বয়োবৃদ্ধ আনার আলী বললেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল আমরা ঘরে তুলতে শুরু করেছি। ওই ছিটমহলের ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের আজিম উদ্দিন আহমেদ (৬০) বলেন, স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি আমরা বাংলাদেশি নাগরিক হব। ভারত সরকার আমাদের নিয়ে এত আন্তরিক হবে তা কল্পনারও বাইরে ছিল। মোবাইল ফোনে কথা হয় ভারতের কুচবিহারে অবস্থানরত বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির ভারত শাখার সাধারণ সম্পাদক দিপ্তীমান সেন গুপ্তের সাথে। তিনি বলেন, রাজ্যসভা ও লোকসভায় বিলটি পাস করার জন্য গত সাত দিন ধরে ঘুম হারাম করে দিয়েছি। কি যে কষ্ট করেছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এখন কি যে আনন্দ হচ্ছে তাও প্রকাশ করতে পারব না।