উখিয়ায় বস্তিতে অবৈধভাবে অর্ধলক্ষ রোহিঙ্গার বসবাস

উখিয়ার কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের পাশে বনভূমির ২৬০ একর জায়গা দখল করে বস্তিতে অবৈধভাবে বসবাস করছে অর্ধলক্ষাধিক রোহিঙ্গা। তারা চলাচল করছে অবাধে। বস্তির প্রবেশপথে ২/৩ জন পুলিশ নিয়মিত প্রহরায় থাকলেও রোহিঙ্গাদের চলাচলে তেমন কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। প্রশাসন বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি না থাকায় বস্তির আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও দেখার যেন কেউ নেই। কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প ইনচার্জ বলছেন, তিনি নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করছেন। বস্তির রোহিঙ্গারা কে কি করছে তা আমার জানার বিষয় নয়।

 
সূত্র মতে, ১৯৯১ সালের শেষের দিকে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা আড়াই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা কক্সবাজার জেলার উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়। সরকার এসব রোহিঙ্গাকে তাত্ক্ষণিকভাবে আশ্রয় ও থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দ্রুত মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে কূটনীতিক তত্পরতা শুরু করে। এতে রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগ মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হলেও ২০০৫ সালে হঠাত্ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আটকা পড়ে ১০ হাজারেরও অধিক নিবন্ধিত রোহিঙ্গা। ২০১০ সালে সীমান্তের নাফ নদী অতিক্রম করে অর্ধলক্ষাধিক রোহিঙ্গা কুতুপালং বনভূমিতে ঝুঁপড়ি নির্মাণ করে আশ্রয় নেয়। ঐ সময় তত্কালীন জেলা প্রশাসক জয়নুল বারী ওইসব অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় তাদেরকে অবৈধ রোহিঙ্গা আখ্যায়িত করে কোন প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা না করার জন্য এনজিও সংস্থাগুলোকে নিষেধ করেন।
 
এসব রোহিঙ্গাকে সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রণ না করার ফলে তারা ইচ্ছামত-অবাধে বিচরণ করার সুযোগ পেয়ে জড়িয়ে পড়েছে নানা অনৈতিক কাজে। বস্তির রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বস্তিতে ৬/৭ জন অস্ত্রধারী ডাকাত বস্তির হতদরিদ্র রোহিঙ্গাদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি করছে। তাদের চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বস্তির যুবতী ও কিশোরী মেয়েদের শ্লীলতাহানিসহ অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা অভিযোগ করে জানান, ডাকাত ছৈয়দের নেতৃত্বে মনির, আবু শামা, আবুল তৈয়ব, আবু ছৈয়দ, জাবেরসহ ৬/৭ অস্ত্রধারী ডাকাতের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ক্যাম্প কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নূর, আবু ছিদ্দিক, জিয়া মাঝি, সিরাজুল মোস্তফাসহ একাধিক রোহিঙ্গা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে উখিয়া থানা পুলিশ প্রতি রাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও বস্তিতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন।
 
ইতিমধ্যে উখিয়া থানা পুলিশ ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে ডাকাত হামিদকে গ্রেফতার করলেও বাকি ডাকাতদের বেপরোয়া আচরণ থামছে না বলে নিরীহ রোহিঙ্গাদের অভিযোগ। সমপ্রতি নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই-ব্লকের বাসিন্দা আবুল কালাম একটি অবৈধ অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পে প্রবেশকালে পুলিশ তাকে অস্ত্রসহ হাতেনাতে আটক করে। ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ শহিদুল হক চৌধুরী জানান, গত সোমবার ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে ডাকাত ছৈয়দ্যাকে আটকের প্রস্তুতি নিলে কৌশলে সে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, ওই সব চিহ্নিত ডাকাতদের গ্রেফতারে ক্যাম্প ও থানা পুলিশ তত্পর রয়েছে। এ ব্যাপারে কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প ইনচার্জ দিদারুল আলম জানান, তিনি নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করছেন। বস্তির রোহিঙ্গারা কে কি করছে তা আমার জানার বিষয় নয়।