জন্মান্ধ আদিবাসী যুবক লুইস মুরমু সুইট। বেঁচে থাকার অদম্য প্রত্যয়ে ছুটে চলেছেন। লুইস মুরমুর বয়স যখন পাঁচ বছর তখন তার মা কফুর সরেনকে এক প্রতিবেশী বলেছিলেন, তোমার অন্ধ ছেলেটি অভিশাপ। ওকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলো। ঠিক দশ ১০ বছর বয়সের লুইসকে তার মা কথাগুলো যখন বলেন। তখন গভীর আত্মবিশ্বাসে লুইস তার মাকে বলেছিল- মা তোমার এই অন্ধ ছেলেটি একদিন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবে।
দীর্ঘ ১৬ বছরের অবিরাম সংগ্রামী লুইস এখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাজশাহী কলেজের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। রাজশাহীর তানোর উপজেলার দুবইল গ্রামের আদিবাসী দিনমজুর ললিত মুরমুরের বড় ছেলে জন্মান্ধ লুইস মুরমু সুইট।
লুইস জানান, অসহায় মানুষের সেবাই হবে আমার একমাত্র ব্রত। আমার মতো যারা অসহায়, যাদেরকে অন্ধ বলে তাচ্ছিল্য করা হয়, আমি তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। অন্যের সাহায্য ছাড়া লুইস চলাফেরা করতে পারেন না। কিন্তু মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার চালাতে পারেন। আর ইন্টারনেট ও ফেসবুক চালান ব্রেইল ও টকিং সেক্টরের মাধ্যমে।
তাছাড়া যে কোনো মানুষের কণ্ঠস্বর একবার শুনলে পরবর্তীতে তাকে চিনতে পারে। জীবনধারণের জন্য তার একটা চাকরির বিশেষ প্রয়োজন বলে জানান তিনি। সোনালী স্বপ্নের ধারক বাহক লুইস হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান।