আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতিবাচক রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান করেছে। তিন মাসের হরতাল-অবরোধের নামে নাশকতায় দেশে ব্যাপক যানমালের যে ক্ষতি হয়েছে তাতে মানুষের মধ্যে এখনো ক্ষোভের আগুন নেভেনি।
তিনি ধ্বংসাত্মক রাজনীতি পরিহার করে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার জন্য বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় সদ্য সমাপ্ত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো আগামীতে তৃণমূলে স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
শনিবার দুপুরে শাহবাগস্থ গণগ্রন্থাগার সেমিনার কক্ষে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসবকথা বলেন।
খালেদা জিয়ার উদ্দেশে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, নিজের ভুল স্বীকার করে নিয়ে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসুন। আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন। জ্বালাও-পোড়াও এবং নৈরাজ্যকর কর্মসূচি পরিহার করে বিকল্প কর্মসূচি দিন। এখন আর মানুষ হরতাল-অবরোধ, জ্বালা-পোড়াও পছন্দ করে না। মানুষ উন্নয়ন চায়। মানুষের হাতে আন্দোলন করার সময় নেই। এ কারণে আন্দোলন আন্দোলন খেলা বন্ধ করুন। জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করুন। উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে কিভাবে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সে ব্যাপারে কোন পরামর্শ থাকলে তা দিন। জনগণ মনে করলে আপনাদের ক্ষমতায় আনবে।
তিনি বলেন, আমরা ভুল শুধরে নিয়েছি বলেই এবার সিটি নির্বাচনে জনগণের সমর্থন পেয়েছি। আপনার কর্মসূচি ভাল হলে আপনিও পাবেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে গত দুদিন আগে। ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি বাস্তবায়ন হয়েছে। স্থল সীমান্ত চুক্তি বিল ভারতে পাস হয়েছে। ৬২ বছরে ভারতে কোনো সরকার পাস করেনি, আমাদের দেশের কোনো সরকারও এটা পাস করাতে পারেনি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকার পাস করাতে সক্ষম হয়েছে। আমরা আশা করি, তিস্তার সমস্যারও সমাধান হবে। ওয়াজেদ মিয়ার স্মৃতিচারণ করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে আগলে রেখেছিলেন ওয়াজেদ মিয়া। ওয়াজেদ মিয়া ক্ষমতার খুব কাছে থেকেও কোন দিন ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি। বাংলাদেশে কত কিছু করা হয়, কেন ওয়াজেদ মিয়ার নামে একটা বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হবে না? আমরা এটা করবো।
ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ফরহাদ হোসেন। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার এম আমীর-উল-ইসলাম, অ্যাডভোকেট হোসনেয়ারা বেগম বাবলী এমপি,পরমাণু শক্তি কমিশনের পরিচালক কানাইলাল চক্রবর্তী, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব তপন কুমার নাথ প্রমুখ।