ধরনটা শোচনীয় হলেও শেষ পর্যন্ত মিরপুর টেস্টে ৩২৮ রানে হারিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বপ্ন যাত্রা থামালো মিসবাহ উল হকের দল।
বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম যদিও চেয়েছিলেন ওয়ানডে সিরিজ ও একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে হারানোর পর পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে আর কিছু না হোক জয়হীন রাখবেন। কিন্তু মিরপুর টেস্টে টস জয় ছাড়া স্বাগতিকরা চারদিনের মাথায় পরাজয়ের আগ পর্যন্ত কোন কিছুই নিজেদের মতো করতে পারেনি। ফলে টেস্ট সিরিজটি খোয়াতে হয়।
জয়ের জন্য পাকিস্তানের দেয়া ৫৫০ রানের দুরহ লক্ষ্যে ব্যাট চালিয়ে বাংলাদেশ দল গতকাল শনিবার টেস্টটির চতুর্থ দিনে চা বিরতির আগেই ২২১ রানে অলআউট হয়ে যায়। একমাত্র মোমিনুল হকই (৬৮) কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন।
লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহ দুই ইনিংসে সাত উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের বিপর্যয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৩ রান দিয়ে নেন চার উইকেট।
পাকিস্তানের জয়ে ব্যাট হাতে ভূমিকা রাখেন আজহার আলি (২২৬), ইউনুস খান (১৪৮) ও আসাদ শফিক (১০৭) ও অধিনায়ক মিসবাহ (৮২)।
পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে আট উইকেটে ৫৫৭ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ছয় উইকেটে ১৯৫ রান তুলে ইনিংস ডিক্লেয়ার করেছিল। জবাবে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২০৩ রানের বেশি তুলতে পারেনি। কিন্তু সফরকারীরা কৌশলগত কারণে স্বাগতিকদের ফলো অন করায়নি।
মুশফিকুর রহিমের দল অবধারিত হারের চাপ নিয়ে কাল খেলতে নেমেছিল পুরনো সঞ্চয় ৬৩/১ নিয়ে। সন্ধ্যায় অপরাজিত থেকে সাজঘরে ফেরা খুলনা টেস্টের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান ওপেনার তামিম ইকবাল (১৫) এবং মোমিনুল হক (১৫)।
কিন্তু মোমিনুল ছাড়া বাকিরা কোন প্রতিরোধই গড়তে পারেনি। ফলে ৫৬.৫ ওভারেই শেষ হয়ে যায় ইনিংসটি।
বিশ্লেষকদের মতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিজেদের উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসেন। তাতে দুই টেস্টের সিরিজটি ১-০ ব্যবধানে জেতা সহজ হয়ে যায় পাকিস্তানের জন্য। আসলে তৃতীয় দিনেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানের জয়টি। কেননা পাকিস্তান অধিনায়ক বিপক্ষকে ফলো অন না করিয়ে চতুর্থ ইনিংসে এই উইকেটে ব্যাট করা কঠিন হবে বলে নিজেরাই দ্রুত ব্যাট চালিয়ে রানের ভার চাপান মুশফিকদের উপর।
কাল দিনের খেলা শুরুর সময়েও তাদের হাতে ছিল আট উইকেট। শাহাদাত হোসেন ব্যাট করতে পারবেন না, এটা আগেই জানা ছিল। কিন্তু বড় ব্যাটসম্যানদের কাউকেই প্রতিরোধ গড়তে দেখা গেল না। এমন যে মোমিনুল যিনি ১০২ বলে নয়টি চারের মারে ৬৮ রান করেন, ইয়াসির শাহ’র লেগ স্পিনে আসাদ শফিককে সহজ ক্যাচ দেন। সব মিলিয়ে লাঞ্চের আগে পরে মাত্র ৫৭ রানে ছয় উইকেট খোয়ায় স্বাগতিকরা। সমর্থকদের জন্য এটা বিশ্বাস করা কঠিন ছিল যে প্রায় এই দলটিই পাকিস্তানকে ওয়ানডেতে হোয়াইট ওয়াশ করেছিল।
তামিম অবশ্য আগের দিনের মতো হাতখুলে না খেলে কিছুটা সতর্কতার সাথেই শুরু করেছিলেন। কিন্তু ইমরান খানের দিনের প্রথম ওভারেই কাভারে ড্রাইভ খেলার চেষ্টা করতে গিয়ে পেসারটির বাড়তি বাউন্সের কাছে পরাস্ত হয়ে ক্যাচ তোলেন তামিম (৪২)। তার ৬৭ বলের ইনিংসে ছিল সাতটি চারের মার।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সাফল্যে অন্যতম প্রধান কারিগর মাহমুদুল্লার ইনিংসটি টিকে ছিল কেবল ১২ বল। প্রথম ইনিংসে একা লড়ে যাওয়া সাকিব ২০ বলের বেশি খেলতে পারেননি।
অধিনায়ক মুশফিক সতর্কতার সাথে শুরু করে নয় বল খেলার পর লাঞ্চের ঠিক আগে ইয়াসির শাহ’র লেগ ব্রেক বুঝতে না পেরে বোল্ড হয়ে যান। মুশফিকরা এভাবেই পথ হারান মিরপুর টেস্ট জুড়ে।