রিকশা চালিয়ে পড়ালেখা করছে কর্মবীর দুই সহোদর। এরা হলো- বড় সুমন আর ছোটভাই সুজন। সুমনের কাছে গাজীপুরা ব্রিজটিকে মনে হয় বাড়ির আঙিনা। স্কুলের গণ্ডির বাইরে যে সময়টা অন্য ছাত্র-ছাত্রীরা মেতে থাকে খেলায় তখন এ ব্রিজের ওপর অটোরিকশা নিয়ে তাকে বসে থাকতে হয় যাত্রীর আশায়।
জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে চায় সুমন মিয়া ও সুজন মিয়া। দু’জনই গোপালদী পৌরসভার সদাসদী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সুমন দশম শ্রেণি ও সুজন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। এদের বাড়ি আড়াইহাজার উপজেলার বিশনন্দী ইউনিয়নের দড়ি বিশনন্দী গ্রামে। দু’ভাই পালা করে মোটর সংযোজিত রিকশা চালায়।
কোনমতেই পড়াশোনা ছাড়তে তারা নারাজ। ওরা বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে। সকাল থেকে বড়ভাই সুমনের ক্লাস চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। এ সময় রিকশা চালায় ছোটভাই সুজন। আবার দুপুর ১টা থেকে বিকাল পর্যন্ত চলে সুজনের ক্লাস। দুপুর ১টায় সুমন স্কুল থেকে ফিরে খেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে বিকাল ৩টায় রিকশা নিয়ে বের হয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত যাত্রী টেনে বাড়ি ফেরে। ওরাই হবে সত্যিকারের কর্মবীর। একটু পরিচর্যা পেলে সুমন ও সুজন পড়ালেখায়ও ভাল করতে পারবে।