সালাহ উদ্দিনকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি খালেদা জিয়ার

 
 
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, দলের অন্যতম যুগ্ম-মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিষ্ঠুর কটাক্ষ করলেও তাকে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেননি। সালাহ উদ্দিনের জন্য তার পরিবার এবং আমাদের সকলের উৎকণ্ঠা দিন দিন আরো গভীর হচ্ছে।
রবিবার ওই বিবৃতিতে তিনি সালাহ উদ্দিনকে ফিরিয়ে দিতে সরকারের কাছে দাবি জানান।
 
বেগম জিয়া বলেন, তার মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ নাগরিককে দীর্ঘদিন গায়েব করে রেখে যদি সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসন নির্বিকার থাকতে পারে তাহলে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা কোথায়? দেশে আইন ও প্রাতিষ্ঠানিকতা কী বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে? কাউকে কী কখনো কোনো কিছুর দায় নিতে বা জবাবদিহি করতে হবে না? 
 
খালেদা জিয়া বলেন, আমরা বারংবার তাকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি করে আসছি। তার স্ত্রী, প্রাক্তন সংসদ সদস্য হাসিনা আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে বারবার আবেদন করছেন স্বামীকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সালাহ উদ্দিনকে ফিরিয়ে দেয়ার কোনো উদ্যোগ নেননি বলেও অভিযোগ করেছেন খালেদা জিয়া। 'আমি আবারো দাবি জানাচ্ছি, সালাহ উদ্দিনকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে তার পরিবারের কাছে ফেরত দেয়া হোক' বলে খালেদা জিয়া বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন।
 
বেগম জিয়া বলেন, সকল নাগরিকের বেঁচে থাকার অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাবার সুযোগ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সর্বস্তরে স্বেচ্ছাচারিতার বদলে আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক রীতি-নীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে আইনের প্রয়োগ, তদন্ত ও বিচারিক ক্ষেত্রে নৈরাজ্যের অবসান ঘটিয়ে শৃঙ্খলা ও নিয়ম-নীতি  ফিরিয়ে আনা হোক।
 
বিবৃতিতে খালেদা বলেন, আমি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করছি যে, জাতীয়তাবাদী দলের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদকে রাজধানীর উত্তরা এলাকার একটি বাসা থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকেরা ধরে নিয়ে যাওয়ার পর দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
 
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার লাগাতার দুই আমলে বিএনপির অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক এমপি, প্রাক্তন ছাত্রনেতা ইলিয়াস আলী, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম, সাবেক সংসদ সদস্য লাকসাম বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজ এবং ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন ও সিলেটের ছাত্রনেতা ইফতেখার আহমদ দিদারসহ বিরোধী দলের বহু নেতা-কর্মীকে বলপূর্বক গায়েব করে ফেলা হয়েছে।
 
তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন তাদেরকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে দীর্ঘ দিনেও তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। জানা যায়নি তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে।খালেদা বলেন, গুম করে ফেলা এসব নেতা-কর্মী ও নাগরিকদের স্বজনেরা তাদের প্রিয়জনের ফিরে আসার প্রত্যাশায় উৎকণ্ঠার প্রহর যাপন করছেন। তারা জানেন না তাদের নিখোঁজ স্বজনেরা আটক অবস্থায় বিনা বিচারে হত্যার শিকার হয়েছেন কি-না।
 
বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, খুনের শিকার হয়ে থাকলে সেই খুনের বিচার দুরে থাকুক, লাশটি পর্যন্ত তারা পাননি। জানতে পারেননি মৃত্যুর তারিখটিও। সুযোগ পাননি প্রিয়জনের লাশ দাফন, কবর জিয়ারত কিংবা মৃত্যু দিবসে দোয়া-খায়ের ও মাগফিরাত কামনা করার।খালেদা জিয়া বলেন, সালাহ উদ্দিনের বিষয়ে তার স্ত্রী থানায় মামলা করতে গেলেও মামলা নেয়া হয়নি। যদিও পুলিশ নিজে থেকে একটা জিডি করেছে, কিন্তু উচ্চ আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও তার সন্ধান আজো দেয়া হয়নি।