সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসহ রাজনৈতিক দলে সংস্কারের প্রস্তাব নাগরিক সমাজের

 
 
দেশের সংকটকবলিত রাজনীতির দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান চান ‘উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ’। এ লক্ষ্যে সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসহ রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে সংস্কারে বেশকিছু প্রস্তাব তুলে ধরেছেন তারা।
 
এরমধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতি পদের পূর্ণ স্বাধীনতা, প্রধানমন্ত্রীর কর্তব্য ও দায়িত্ব পুননির্ধারণ, ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাসহ সংবিধানের কয়েকটি ধারা এবং সাংবিধানিক বিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর সংস্কার।
 
রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কেন্দ্রিক গণতন্ত্রের ওপর অত্যধিক গুরুত্ব দেয়ায় পূর্ণ গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশের অভিযাত্রা অনেকটাই বাধাগ্রস্থ হয়েছে। কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শুধু নির্বাচনই যথেষ্ট নয়।
 
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, সংগঠনের আহ্বায়ক ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এটিএম শামুসল হুদা। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, এম হাফিজউদ্দিন খান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. তোফায়েল আহমেদ, সৈয়দ আবুল মকসুদ, ড. আহসান এইচ মনসুর এবং ব্যারিষ্টার মঞ্জুর হাসান প্রমুখ।
 
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বা নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা এ সমস্যার সমাধান হবে না। সংকটের শেকড় আরো গভীরে। জাতীয় সংসদের পাশাপাশি সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোকে কার্যকর, শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলকভাবে গড়ে তুলতে হবে। দায়িত্বশীল বিরোধী দলের উপস্থিতি এবং জাতির বৃহত্তর স্বার্থে অতীত ও বর্তমানের বিষয়ে আপস-মীমাংসার মানসিকতা থাকা গণতন্ত্র বিকাশের জন্য অপরিহার্য। দুর্ভাগ্যবশত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এটা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
 
এক প্রশ্নের জবাবে শামসুল হুদা জানান, ভয়াবহ সন্ত্রাস চলাকালে উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীকে সংলাপে বসার তাগিদ দিয়ে চিঠি দেয়া হলেও তার জবাব মেলেনি। তবে তারা মনে করেন সংস্কার নিয়ে তাঁদের প্রস্তাবগুলো সম্পর্কে আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক ও চর্চা চলতে থাকলে দেশে সত্যিকার গণতান্ত্রিক পরিবেশ কোনো না কোনো সময় ফিরে আসবে। এতে বলা হয়-স্বাধীনতাসহ অতীতেও সব পরিবর্তন রাজনীতিবীদদের হাত ধরে এসেছে। ভবিষ্যতেই কাঙ্খিত রাজনৈতিক পরিবর্তন একমাত্র রাজনীতিবিদেরাই আনতে পারেন।
 
সংস্কারের প্রস্তাব
 
সাংবিধানিক সংস্কারের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতি পদের পূর্ণ স্বাধীনতা; রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের ভারসাম্য আনা; প্রধানমন্ত্রীর কর্তব্য ও দায়িত্ব পুনর্নির্ধারণ করা, ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদে দলগুলোর প্রতিনিধি নির্ধারণ, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা সুস্পষ্ট করা, সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নারীদের জন্য সংসদীয় আসন সংরক্ষণ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের কাছে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং ক্ষমতা ও সম্পদ হস্তান্তর করা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সংশোধন, জাতীয় ও স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণভোট চালু করা।
 
এ ছাড়া সাংবিধানিক বিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর মধ্যে জাতীয় সংসদ, সুপ্রিম কোর্ট, নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, তথ্য কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, আমলাতন্ত্রের সংস্কার, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা নিশ্চিত করা, শাসন প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে বলিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয় প্রস্তাবে।