জাবি শিক্ষককে লাঞ্ছনা: পুলিশ সার্জেন্ট সাময়িক বরখাস্ত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাকিব আহমেদকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ সার্জেন্টকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার জন্য দায়ী পুলিশ সদস্যদের শাস্তি দাবিতে রবিবার দুপুরে প্রায় সোয়া দুই ঘন্টা ঢাকা-আড়িচা মহাসড়ক অবরোধ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দোষী সকল পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেধে দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।
 
শনিবার রাতে রাজধানীর উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকায় এ শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীররনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথক কর্মসূচি পালিত হয়।
 
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানায়, রাকিব আহমেদকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে সার্জেন্ট ইমরানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুই কমিটিকেই  তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
 
জানা যায়,  শনিবার রাত দশটার দিকে সিলেট যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাকিব আহমেদ তাঁর মা-বাবাকে নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িযোগে বিমানবন্দর রেলস্টেশনে যাচ্ছিলেন। উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকায় পৌঁছালে  ট্রাফিক পুলিশের একজন সার্জেন্ট ইমরান গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র দেখেন। কাগজপত্র হাতে নেওয়ার পর সার্জেন্ট ইমরান গাড়ি জব্দ করেন। এমন পরিস্থিতিতে রাকিব তাকে অনুরোধ করে জানান, তিনি মা-বাবাসহ সিলেট যাচ্ছেন। ট্রেন  ছেড়ে চলে যাবে।  তিনি ওই কর্মকর্তাকে গাড়ির কাগজপত্র রেখে দিয়ে তাঁদের রেলস্টেশন পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ করে দিতে অনুরোধ করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বলে পরিচয় দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সার্জেন্ট ইমরান। এক পর্যায়ে কর্মকর্তা রাকিবের গলা চেপে ধরে পুলিশ বক্স নিয়ে যান।
 
এ ঘটনার সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছলে শিক্ষার্থীদের মাঝে  উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।  দুপুর পৌনে একটার দিকে ঐ বিভাগের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে। এসময় বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা একটি বাস ভাংচুর করে। এতে বিপাকে পড়ে সাধারন যাত্রীরা।
 
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহারের আবেদন জানান। কিন্তু তাতে শিক্ষার্থীরা সাড়া না দিলে বেলা তিনটার দিকে এসে শিক্ষার্থীদের অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য আহবান জানান ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।
 
দুপুর পৌনে একটা থেকে তিনটা পর্যন্ত অবরোধে মহাসড়কের উভয় পাশে শতশত গাড়ি আটকা পড়ে। পরে ভিসির আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন।
 
এর আগে শিক্ষক সমিতির নেতারা ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সাথে তার কার্যালয়ে সাক্ষাত্ করে দ্রুত  এ ঘটনার বিচার দাবি করেন। 
 
সোমবার শিক্ষক সমিতির ব্যানারে শিক্ষকরা বিচার দাবিতে মানব বন্ধন করবেন। এদিকে এক বিবৃতিতে  শিক্ষক লাঞ্ছনার বিচার দাবি করেছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির আল্টিমেটাম
 
জাবি শিক্ষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি রাকিব আহমেদকে লাঞ্ছনার প্রতিবাদ ও  জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবিতে দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন করেছে সংগঠনটি। দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ৪৮ ঘন্টার সময় বেধে দেন সমিতির সভাপতি মাসুম বিল্লাহ ও সানাউল হক সানী।
 
মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের অর্জন ভূলুণ্ঠিত করার মতলব নিয়ে পুলিশের ওই সদস্যরা এ কাজ করতে পারেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে দায়ী পুলিশ সদস্যদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
 
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ইদানীংকালে পুলিশ নিজেদের আচরণবিধি ও অধিকার সম্পর্কে ভুলে যাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা উঠে যাবে। পুলিশকে কর্তৃত্বপরায়ন নয় সেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান তিনি।