চট্টগ্রামে হঠাত্ করেই বেড়ে গেছে অপরাধ প্রবণতা। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ছিনতাই ও চুরির মত ছোটখাটো অপরাধ ছাড়াও দিনে দুপুরে বাসায় ঢুকে মা-মেয়েকে খুন, নববধূকে গুলি করে হত্যা, বিভিন্ন স্থানে ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা, শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে একাধিকবার ডাকাতি এবং নারী অপহরণের মত অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের মধ্যে হঠাত্ অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তবে অপরাধীদের যে কোন মূল্যে আইনের আওতায় আনা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকায় বাসায় ঢুকে মা-মেয়েকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। একই দিন জেলার চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়িতে এক নববধূকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। গত বৃহস্পতিবার মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে নগরী ও জেলার দু’টি স্থানে ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলার হাটহাজারীর কুয়াইশ এলাকায় অগ্রণী ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টাকালে এক ডাকাতকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয় জনতা। তার সহযোগী দুই ডাকাত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এ ঘটনার মাত্র ৫ ঘন্টা পর রাত আড়াইটার দিকে নগরীর মুরাদপুরে আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রহরী মো. ইব্রাহীমকে জবাই করে হত্যা করে ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা করে ডাকাতরা। একইদিন জেলার বাঁশখালীতে ডাকাতি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহত হয় দুই ডাকাত। ডাকাতের গুলিতে আহত হয় ৬ গ্রামবাসী।
গত শুক্রবার নগরীর জামালখান এলাকায় র্যাংগস ইলেকট্রনিকসের শো রুমে চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়ে দুই চোর। গত বুধবার নগরীর চকবাজার থানার গুলজার টাওয়ারের পাশ থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গত রবিবার জেলার চন্দনাইশে কয়েকজন জুয়াড়ীকে আটক করলে তারা পুলিশের প্রতি ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়। গত সোমবার রাউজান উপজেলায় এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে অপহরণ করে দুর্বৃৃত্তরা। একইদিন সীতাকুন্ডে আহমদ মোস্তফা শিপব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এর দু’দিন পর সীতাকুন্ডে আরেফীন এন্টারপ্রাইজ নামে আরো একটি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ডাকাতি হয়। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ইদানীং চুরি, ছিনতাইয়ের মত ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনে দুপুরেই এসব ঘটনা ঘটছে।
এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) বনজ কুমার মজুমদার ইত্তেফাককে বলেন, সামপ্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো।
কয়েকটি অপরাধ পরপর ঘটে যাওয়ায় নগরবাসী কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তবে এসব ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।