সৈয়দপুরে ধান আলুর পর মরিচেও মার খেল কৃষক

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ধান আলুর পর মরিচেও মার খেল কৃষক। প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ মাত্র চার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকের উত্পাদন খরচ দূরে থাক, ক্ষেত থেকে মরিচ তোলা ও বাজারে নিয়ে আসার খরচও উঠছে না। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সৈয়দপুরে পাঁচটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমিতে মরিচের চাষ করা হয়।

 
উপজেলার কামারপুকুর, বাঙালিপুর, খাতামধুপুর, কাশিরাম বেলপুকুর, বোতলাগাড়ি ইউনিয়নে উঁচু জমিতে মরিচের আবাদ করা হয়। অনেক কৃষক সাথী ফসল হিসাবেও মরিচ আবাদ করেন। এলাকার কৃষক আব্দুল কাদের জানান, বর্তমানে কাঁচা মরিচের দাম নেই বললেই চলে। প্রতিকেজি ২/৩ টাকা হিসাবে পাইকাররা কিনছেন। মরিচ তোলার খরচ ও ভ্যান ভাড়াটাও উঠছে না। ফলে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। প্রতিবছর এই সৈয়দপুরের বাজার থেকে পাইকাররা মরিচ কিনে বাইরের জেলায় পাঠাতো। কিন্তু এবারে দাম কম হওয়ায় তারাও বেশি মরিচ কিনছে না।
 
পাইকারি বাজারের ক্রেতা শফিকুল ইসলাম জানান, যে হারে মরিচ বাজারে আসছে, সে হিসাবে ক্রেতা নেই। চাষিদের কাছ থেকে কাঁচা মরিচ কিনে মাত্র ৪ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। আর খুচরা দোকানিরা সেই মরিচ ৮/১০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, এবছর উপজেলার সর্বত্র কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে।
 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হোমায়রা মন্ডল জানান, কাঁচা মরিচের আশাতীত ফলন হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি অফিসারদের তদারকি ও পরামর্শে কৃষকরা এই সাফল্য অর্জন করেন। কিন্তু বাজারে দাম না পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে কিছুটা হতাশা বিরাজ করছে।
 

উপজেলার কৃষকরা একের পর এক ফসলের দাম না পাওয়ায় উত্পাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। চলতি বছর বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজারে ধান বিক্রি করে  উত্পাদন খরচও উঠছে না। একই অবস্থা আলুর ক্ষেত্রেও। বর্তমানে প্রতিবস্তা (৮৫ কেজি) আলু মাত্র ৭শ’ ৫০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এভাবে উত্পাদিত ফসলে মার খাওয়ায় কৃষকরা নিজেদের পুঁজি হারিয়ে ফেলছেন। ছোট ও মাঝারি কৃষক ঘাটতি মোকাবেলায় জমি বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে খোঁজ পাওয়া গেছে।