চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট প্রকট

চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সরবরাহের উত্সগুলোর সক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট প্রকট হয়েছে। উত্সগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ কমে গেছে। উত্সগুলো পুরনো এবং যান্ত্রিক ত্রুটি ও ভূ-গর্ভের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় গভীর নলকূপগুলোর পানি সরবরাহ কমে গেছে বলে ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান। মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্প ও নলকূপগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে বছরে কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে; কিন্তু আশানুরূপ সুফল মিলছে না। ফলে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ গভীর নলকূপের পরিবর্তে নতুন নতুন পানি শোধনাগার প্রকল্প নির্মাণে জোর দিচ্ছে। বাস্তবায়নাধীন কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প চলতি বছরের শেষে চালু হবে এবং মদুনাঘাট ও মোহরা দ্বিতীয় পর্যায় দুইটি পানি শোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে বলে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ জানায়।

 
প্রতি বছর এই মৌসুমে পানির চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে নগরবাসীকে দুর্ভোগে পড়তে হয়। পানি সরবরাহের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি পানির সংকট প্রকট হয়েছে। ওয়াসার বিশুদ্ধ পানির উেসর মধ্যে রয়েছে মোহরা পানি শোধনাগার ও ৯৫টি গভীর নলকূপ। এসব উত্স থেকে দৈনিক প্রায় ২১ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করার সক্ষমতা রয়েছে। এদের মধ্যে মোহরা প্রকল্প চালু হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। গভীর নলকূপগুলোর অধিকাংশ জরাজীর্ণ। মোহরা প্রকল্পের গত ২০১১ সালে একবার মেরামত কাজ হয়েছে। কিছু নলকূপ বসানোর সময় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। যার কারণে অল্প সময়ের মধ্যে ত্রুটি দেখা দেয়। ৭৫টিতে বিদ্যুতের এক্সপ্রেস লাইন ও ডিজেল চালিত জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, মোহরা পানি শোধনাগারের দৈনিক উত্পাদন ক্ষমতা ৯ কোটি লিটার। তবে এখন দৈনিক ৮ কোটি লিটারের বেশি পানি শোধন করা সম্ভব হচ্ছে না। গভীর নলকূপগুলো থেকে দৈনিক ১২ কোটি লিটারের স্থলে ৮ কোটি লিটারের বেশি পানি পাওয়া যাচ্ছে না।
 

কর্মকর্তারা জানান, নলকূপগুলোতে পানির সক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে রয়েছে নগরীতে পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যাওয়া। বিশুদ্ধ পানি সংকটে মানুষ যত্রতত্র নলকূপ বসাচ্ছে। লাইসেন্সবিহীন নলকূপ বসানো ঠেকানো যাচ্ছে না। মানুষ পানির জন্য নলকূপ বসাতে বাধ্য হচ্ছে। ওয়াসার লাইসেন্সধারী নলকূপ রয়েছে প্রায় দেড় হাজার। পানি সংকটের মধ্যেও নতুন নতুন সংযোগ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে নগরীতে প্রায় ৫৫ হাজার পানি সংযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ আরো ১৫টি গভীর নলকূপ বসানোর প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ৪টি নলকূপ চালু হয়েছে।