বাজেটে কর্পোরেট কর কমানোর প্রস্তাব এফবিসিসিআই’র

বাজেটকে ব্যবসায়ীবান্ধব করতে কোম্পানির কর বা কর্পোরেট কর যৌক্তিক হারে কমানোর দাবি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সামপ্রতিক বাজেটের উদাহরণ টেনে ভিন্ন ভিন্ন খাত এবং পরিস্থিতিতে আসছে বাজেটে এ হার কী হতে পারে তাও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হলে তা যাতে কেবলমাত্র উত্পাদনমুখী খাতে দেয়া হয় সে প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাজেট নিয়ে পরামর্শক কমিটির সভায় এ সব প্রস্তাব তুলে ধরা হবে। এফবিসিসিআইয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আয়কর, ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর)  ও আমদানি শুল্ক বিষয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআই যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করছে। এতে অর্থমন্ত্রীসহ বাজেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

 
কর্পোরেট কর কমানোর যুক্তিতে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যক্তি করের তুলনায় কর্পোরেট করহার কম হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে এটি উল্টো। ফলে অনেক কোম্পানি তাদের সঠিক আয় প্রদর্শনে নিরুত্সাহিত হয়।
 
সূত্র জানায়, এফবিসিসিআইয়ের প্রস্তাবে ব্যাক্তি শ্রেণীর আয়কর দাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বিদ্যমান ২ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। নারী ও বয়স্ক নাগরিক, প্রতিবন্ধী ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের করমুক্ত আয়সীমাও বাড়ানোর প্রস্তাব থাকবে।
 
বর্তমানে শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত নয় এমন কোম্পানির ক্ষেত্রে কর্পোরেট কর হার ৩৫ শতাংশ। এটি কমিয়ে উত্পাদনকারী কোম্পানির ক্ষেত্রে সাড়ে ২৭ শতাংশ আর ট্রেডিং কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত রয়েছে এমন কোম্পানির ক্ষেত্রে লভ্যাংশের উপর ভিত্তি করে যথাক্রমে ৩৫ শতাংশ সাড়ে ২৭ ও পৌনে ২৫ শতাংশ কর রয়েছে। এফবিসিসিআই এ হার কমিয়ে যথাক্রমে ৩০ শতাংশ, ২৫ ও সাড়ে ২২ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে। ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে সাড়ে ৪২ শতাংশ হারে কর্পোরেট কর দিচ্ছে। এটি কমিয়ে লভ্যাংশ প্রদানের উপর ভিত্তি করে যথাক্রমে ৪০ শতাংশ, সাড়ে ৩৭ শতাংশ ও ৩৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংকের ক্ষেত্রে সাড়ে ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ, মোবাইল ফোন ও সিগারেট প্রস্তুতকারক কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাড়ে ৪২ শতাংশ রাখা এবং কোম্পানির লভ্যাংশ আয়ের উপর বিদ্যমান ২০ শতাংশের স্থলে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও করা হয়েছে।
 
বর্তমানে ২ কোটি টাকার অধিক সম্পদধারীদের উপর প্রদেয় করের উপর সারচার্জ বা মাশুল দিতে হয়। এ সীমা আড়াই কোটি টাকা করার প্রস্তাব থাকছে আজকের প্রস্তাবে। এছাড়া আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম কর বিদ্যমান ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা, এসএমইদের বার্ষিক টার্নওভার সীমা বিদ্যমান ৩০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪২ লাখ টাকা, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থাকে কার্যকর করা, এনজিওদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আয়করের আওতায় আনতে আইনের সংশোধন করা, রপ্তানিকারকদের নগদ সহায়তার উপর বিদ্যমান ৩ শতাংশের পরিবর্তে ১ শতাংশ করা, সব ধরনের পণ্য রপ্তানিতে উেস কর দশমিক ৩ শতাংশ করাসহ আয়কর বিষয়ে ১৪১টি প্রস্তাব দেয়া হয়।
 
ভ্যাট : ভ্যাটের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশের পরিবর্তে যারা উপকরণ রেয়াত নিতে ব্যর্থ তাদের জন্য হ্রাসকৃত হারের বিধানে নতুন ভ্যাট আইনে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। নতুন ভ্যাট আইনে উপকরণ রেয়াত নেয়ার সুযোগ রেখে সব ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হার রাখার বিধান রাখা হয়েছে। উত্পাদক, ব্যবসায়ী ও সেবা খাতের জন্য টার্নওভারের (বার্ষিক বিক্রয়) উপর অব্যাহতি সীমা বিদ্যমান ২৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। উত্পাদকদের ক্ষেত্রে অবশিষ্ট দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে তিন শতাংশ এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে ২ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের সুবিধা রাখার প্রস্তাব করাসহ ১২৮টি প্রস্তাব করা হয়েছে।
 

শুল্ক :মৌলিক কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে ১ শতাংশ শুল্ক রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া দেশে উত্পাদিত হয় না এমন মধ্যবর্তী কাঁচামাল আমদানিতে ৩ শতাংশ, অতিপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ও দেশে উত্পাদিত কাঁচামাল ১০ শতাংশ এবং বিলাসদ্রব্য বা তৈরি পণ্য আমদানিতে ২৫ শতাংশসহ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব শুল্ক বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৩১৮টি প্রস্তাব থাকছে।