১৫ বছর বয়সেই দেশের সব নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে যারা ১ জানুয়ারি ২০০০ সালের পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছেন তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। চলতি বছরের জুলাই থেকেই এসব নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য তিন ধাপে তথ্য সংগ্রহ হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, ১৫ বছর বয়সী প্রত্যেকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিগগিরই তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ১ জুলাই থেকে ১৫ অক্টোবর, দ্বিতীয় ধাপে ১ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্ট এবং শেষে ধাপে ১ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এতে ৭২ লাখ ১৫ হাজার নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করেছে ইসি।
২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা কার্যক্রমের পর প্রথমবারের মতো আঠারো বছরের কম বয়সীদের পরিচয় নিবন্ধনে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়েই এসনব নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। বর্তমানে ভোটার তালিকায় ভোটারযোগ্য শুধু ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের অন্তর্ভূক্ত করা হয়। কিন্তু ১৮ বছরের কম বয়সীদেরও জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন’ হওয়ার পর তাদের নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের সঙ্গে মঙ্গলবার (১২ মে) এক বৈঠক করে। বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, নিবন্ধন কার্যক্রমে ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী সব নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করবে ইসি। এতে বয়স প্রমাণের জন্য শিক্ষার্থীদের উচ্চ মাধ্যমিকের রেজিস্ট্রেশন কার্ড আমলে নেয়া হবে, আর তা না থাকলে জন্ম সনদও বিবেচ্য হবে। এসব নাগরিকরা ১৮ পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন এবং ভোট দিতে পারবেন। এছাড়া পরবর্তীতে শুন্য থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী নাগরিকদেরও জাতীয় পরিচয়পত্র দেবে ইসি। এতে প্রথম ভাগে শুন্য থেকে ৬ মাস, দ্বিতীয় ভাগে ৬ মাস থেকে ৬ বছর বয়স পর্যন্ত, এরপর ৬ বছর থেকে ১২ বছর বয়সীদের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ অক্টোবর দেশের সব নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার বিধান রেখে বিল পাস করে সংসদ। এর ফলে ভোটার না হলেও ১৮ বছরের কম বয়সীদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার পথ তৈরি হয়। এরপরই গত বছর জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগকে ১৮ বছরের কম বয়সীদের পরিচয়পত্র দেয়ার বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপনে নির্দেশ দেয় ইসি।