ডিসেম্বরে শুরু 'নতুন বিপিএল'!

২০১২ সালে শুরু হওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) মহা-আলোচিত ব্যাপার হয়ে ওঠে এসে পরের বছর দ্বিতীয় আসরে—স্পট ও ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারির কারণে। এই কেলেঙ্কারির জের ধরে ঝড় বয়ে গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ওপর দিয়ে। আর এরই ফল হিসেবে প্রায় দু বছর ধরে ঝুলে আছে বিপিএলের আরেকটি আসরের মাঠে গড়ানো। এই টুর্নামেন্ট আদৌ আর কখনো অনুষ্ঠিত হবে কি না, এ নিয়েও সংশয় ছিলো।
 
অবশেষে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল জানিয়েছে এ বছর ডিসেম্বর মাসে একেবারে নতুন চেহারায় আয়োজন করতে চান তারা বিপিএলের তৃতীয় আসর। বিপিএল গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহা ও গভর্নিং বডির সদস্য সচিব ইসমাঈল হায়দার মল্লিক এবং বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজন ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস উপস্থিত থেকে সংবাদ সম্মেলনে এই খবর জানান।
 
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেন, তারা শ্রীলঙ্কান প্রিমিয়ার লিগের উদাহরণ সামনে রেখে কম খরচের একটা লিগ করতে চান, ‘আমরা আগের কাঠামো, নিয়ম-কানুন বাদ দিয়ে নতুন আঙ্গিকে কম খরচের মধ্যে বিপিএল আয়োজন করতে যাচ্ছি। বিপিএল আয়োজনের জন্য এমন একটা বাজেট পেশ করা হবে, যেটা ফ্র্যাঞ্চাইজি-খেলোয়াড় সবার জন্য সহায়ক হবে। উদাহরণ স্বরূপ আমি বলতে পারি শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড যেভাবে স্বল্প খরচে এসএলপিএল আয়োজন করেছিলো, আমরাও সেরকম কম খরচে-কম বাজেটের মধ্যে বিপিএল আয়োজন করবো। কারণ বড় বাজেট করে লাভ নেই। এর আগে গেম অন স্পোর্টসের সঙ্গে বিসিবির ৬ বছরে জন্য ৪০০ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু বিসিবি পেয়েছে মাত্র ৬ কোটি টাকা।’
 
কোন কোন দল, কোন কোন ফ্রাঞ্চাইজি এবারের বিপিএলে অংশ নেবে; তা এখনও চূড়ান্ত নয়। তবে এটুকু জানানো হলো যে, আগের সাতটি দলের পাশাপাশি এবার ময়মনসিংহ থেকে একটা নতুন ফ্রাঞ্চাইজি অংশ নিতে পারে বিপিএলে।
 
যে বিপিএলের কারণে দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে, সেই টুর্নামেন্ট আবার কেন মাঠে গড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে? এমন প্রশ্নের বিসিবির সিইও নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজন বললেন, এরকম একটা লিগ আসলে জাতীয় দলের প্রস্তুতির জন্যও তাদের প্রয়োজন, ‘আসলে দেখেন গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আমরা বিপিএল আয়োজন করতে পারিনি। সেটা করতে পারলে খেলোয়াড়রা আরো ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারতো। আগামী বছরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে, তার আগে এশিয়া কাপ। বিপিএল হলে, ক্রিকেটাররা এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে নিজেদের যথাযথ প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ পাবেন, মূলত এজন্যই আমরা বিপিএল আয়োজন করতে চাচ্ছি।’
 
বিপিএল দ্বিতীয় আসরে পাকিস্তানী ক্রিকেটাররা অংশ না নেয়ায় সেভাবে জমে উঠেনি টি- টোয়েন্টির এই জমজমাট আসর। বিপিএলের তৃতীয় আসরে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের অংশ নিতে আর কোন বাঁধা নেই। সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরে এমনটি জানিয়ে গেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)’র সভাপতি শাহরিয়ার খান।
 
পাকিস্তানী ক্রিকেটারদের আসার উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকলেও ভারতীয় ক্রিকেটারদের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা যথারীতি নেই বললেই চলে। বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস অবশ্য বললেন, ‘দেখেন আগে কিন্তু আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে ভারতীয় ক্রিকেটাররা অংশ নিতো। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের একটা আন্তর্জাতিক নীতিমালা আছে, তারা তাদের কোন খেলোয়াড়কেই বিদেশী কোন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলার অনুমতি দেয় না। তবে আমরা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছে আবেদন করে রাখবো, আমাদের এখানে তাদের ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ দেয়ার জন্য।’