প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রূপপুর পারমাণবিক পাওয়ার প্লান্ট প্রজেক্ট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জোরদার করতে রাশিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সজান্ডার এ নিকোলাভ সৌজন্য সাক্ষাত্কালে তিনি এ অনুরোধ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, বেঠকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেয়া তার দেশের প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভের একটি পত্র হস্তান্তর করেন। পত্রে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের গতিশীল উন্নয়ন সম্প্রতি এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। পত্রে আরো বলা হয়, দুই দেশের মধ্যকার সক্রিয় সহযোগিতায় বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ, কৃষি এবং পরমাণু বিদ্যুত্ প্রকল্পের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। শেখ হাসিনা দূতের মাধ্যমে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভকে শুভেচ্ছা জানান। নিকোলাভ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত ৬ বছরে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।
বাংলাদেশ এর আগে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার রাষ্ট্র মালিকানাধীন পরমাণু কোম্পানি রোসাটমের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে। রাশিয়া এই চুক্তির অধীনে প্লান্ট স্থাপনে সব ধরনের সহায়তা দেবে। প্লান্টের দুইটি ইউনিট স্থাপনে ২৬২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এতে ২০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদিত হবে। প্রতিটি ইউনিট নির্মাণে ব্যয় হবে ১ দশমিক ৫ থেকে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের অর্থ
সহায়তার চেক প্রদান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খেতাবপ্রাপ্ত আট মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্য ও উত্তরসূরীদের কাছে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেছেন।
গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ চেক হস্তান্তর করা হয়। দুই বীর শ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ এবং হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্য ও উত্তরসূরীরা এবং ৬ বীর প্রতীক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আর্থিক সহায়তার চেক গ্রহণ করেন।
শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের (এইচএসআইএ) তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে এগিয়ে নেয়া এবং ক্রমবর্ধমান যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, দ্বিতীয় রানওয়ে এবং অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রণীত প্রাথমিক সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন ও খসড়া মাস্টারপ্লানের উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশনা দিয়ে বলেন, দেশের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় বাংলাদেশে অবশ্যই একটি আধুনিক ও বৃহত্ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। এ ব্যাপারে দেশের বিমান বন্দরের উন্নয়নের জন্য তিনি তার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, তার সরকারই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের দ্বিতীয় টার্মিনাল নির্মাণ করেছে। এছাড়া সিলেট ওসমানি এবং চট্টগ্রামে শাহ আমানত বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উন্নীত করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, কক্সবাজার ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঈশ্বরদী বিমান বন্দরের আরো উন্নয়ন করা হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদারে এসব বিমান বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, মন্ত্রণালয়ের সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম সানাউল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।