বাস্তবায়ন অগ্রগতি না থাকলেও চলতি অর্থবছরের ন্যায় আগামী অর্থবছরেও ৪০টি প্রকল্প সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য তালিকায় থাকছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) চলতি (২০১৪-১৫) অর্থবছরের বেশিরভাগ পিপিপির প্রকল্প নতুন (২০১৫-১৬) অর্থবছরের তালিকায় থাকছে।
১৭টি অর্থনৈতিক খাতে আসছে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৯২ হাজার ৫শ কোটি টাকা। এছাড়া ১০টি উন্নয়ন সহায়তা খাতে ২ হাজার ৭শ ৩৯ কোটি টাকা, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন থাকছে ৩ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে নতুন এডিপির আকার প্রস্তাব করা হয়েছে ৯৬ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় উত্থাপন করা হবে। সূত্র জানায়, পদ্মা বহুমুখী প্রকল্প বাস্তবায়নে আসছে অর্থবছরে ৭ হাজার ৪শ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হতে পারে।
অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ৭ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ থেকে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা কম বাস্তবায়ন হবে। এদিকে কিছু মন্ত্রণালয়ের বাড়তি বরাদ্দের বিষয়ে আজ এনইসি বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানা যায়, পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক মানের একটি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বরাদ্দের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট বাড়তি বরাদ্দের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সবমিলিয়ে এডিপির আকার প্রস্তাবনার চেয়ে কিছুটা বাড়তে পারে। সূত্র জানায়, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পদ্মা সেতুর গুরুত্ব বিবেচনায় আসছে অর্থবছরে পরিবহন খাতে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা মোট বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দের ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
সেই সাথে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প যেমন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা, পুনর্বাসন, দারিদ্র্য নিরসনে সরাসরি সহায়ক, মানব সম্পদ উন্নয়ন ও অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতসমূহের প্রকল্পকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। উন্নয়নের মূল ধারায় জলবায়ু পরিবর্তনকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বিশেষ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। সম্পদের সীমাবদ্ধতায় নতুন প্রকল্পের চেয়ে চলমান প্রকল্পগুলো শেষ করার বিশেষ গুরুত্ব থাকছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির চেয়ে নতুন এডিপির আকার বাড়ছে ২৩ দশমিক ২৩ শতাংশ।
নতুন এডিপিতে স্থানীয় মুদ্রার সংস্থান রাখা হচ্ছে ৬১ হাজার ৯৯৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্যের প্রত্যাশা করা হচ্ছে ৩৪ হাজার ৫শ কোটি টাকা।