কে-পপ’ নিয়ে সেরাদের সেরা সাই

 
কে-পপ বলতে বোঝায় কোরিয়ার পপ সংস্কৃতি। আর হালিয়ু বলতে বোঝায় সেই সংস্কৃতির ঢেউ, যা এখন চীন, জাপান তথা গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে ভাসাচ্ছে। এশিয়ায় কে-পপের জনপ্রিয়তা ছড়াচ্ছেই। কিন্তু এবার দক্ষিণ কোরিয়ার র্যাপ গায়ক ‘সাই’ পিএসওয়াই-অ্যাপলের আইটিউন ডাউনলোডে এবং ইউটিউবের তুঙ্গে উঠে এসেছেন। সে কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম
 
অ্যাপলের আইটিউন ডাউনলোড চার্টের শীর্ষে এবং ইউটিউবে ২৭ কোটি ভিউয়িং। সাই এবার তার ‘গ্যাংনাম স্টাইল’ নামের গানটি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব জয় করতে চলেছেন তিনি। তার উন্নতি দেখে বলাই যায়, খুব সহজেই সেটা তিনি করে ফেলতে পারবেন। সম্প্রতি বিলবোর্ড ১০০ চার্টেও তিনি একাদশ স্থান অবধি পৌঁছেছেন। গ্যাংনাম হলো দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সউলের একটি অভিজাত এলাকা, যাকে বলা হয় সউলের বেভার্লি হিলস। সাইয়ের গ্যাংনাম স্টাইলের গায়কী সম্পর্কে সাই নিজে বলেছেন, ‘ড্রেস ক্ল্যাসি, ডান্স চিজি’, অর্থাত্, জামাকাপড় দামি, কিন্তু নাচ আজগুবি। স্ট্যাইলটা এমনই দাঁড় করিয়েছেন তিনি। অথচ কোরিয়ার যে সেভল্টে গার্ল ব্যান্ড এবং বয় ব্যান্ডগুলো এশিয়ায় ঝড় তুলেছে, তাদের থেকে সাই (আসল নাম পার্ক জেই-সাং) অনেকটা আলাদা।
 
সাই সম্পর্কে কিছু কথা
 
সাইয়ের প্রথম গানের অ্যালবাম বের হয় ২০০১ সালে। কিন্তু তার যে গানটি এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মাতাচ্ছে, সেটি বেরিয়েছে মাত্র গত বছরের জুলাই মাসে। তার সঙ্গে সাইয়ের ঘোড়ায় চড়ার ঢংয়ের নাচ। সাইয়ের আদৌ পপ গায়ক হওয়ার কথা ছিল না। ছিল না ইচ্ছেও। বাবার একটি বড় আইটি কোম্পানি আছে। পড়াশোনার জন্য তাকে আমেরিকা পাঠানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হলে প্রথমে সাই একটি মার্কিন বিজনেস স্কুল থেকে পালিয়ে যান এবং পরে বার্কলি স্কুল অব মিউজিকও ছেড়ে দেন। নিজের সম্পর্কে তার বক্তব্য, ‘আমার সেকেন্ড ক্লাস থাকতেই ভালো লাগে। আমি জন্ম থেকেই বি-ক্লাস।’ যুক্তরাষ্ট্রে সাই বিভিন্ন নামকরা চ্যাট শোতে আবির্ভূত হয়েছেন, এমনকি সম্প্রতি ব্রিটনি স্পিয়ার্সকে তার ‘ঘোড়ার নাচ’ও শেখানোর চেষ্টা করেছেন, টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে। তবে মাতৃভাষা কোরিয়ানের সঙ্গে ইংরেজির জগাখিচুড়ি পাকিয়ে তার মাথা ধরে গিয়েছিল, জানিয়েছেন সাই। অথচ তার পরের সিঙ্গলটা ওই ধরনের খিচুড়ি ভাষাতেই করার কথা ভাবছেন সাই। গানের ব্যাপারে সাইয়ের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটি হলো ‘ফান’, অর্থাত্, মজা। গান গেয়ে মজা পেতে এবং দিতে চান সাই। তার একমাত্র দুঃখ সম্ভবত এই যে, এই বিপুল স্বীকৃতি এলো তিনি গান গাওয়া শুরু করার সুদীর্ঘ বারো বছর পরে।