নিজেই পুলিশের কাছে যান সালাহউদ্দিন!

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন রাজ্য পুলিশের বিশেষ শাখার (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) কর্মকর্তারা। শিলং থেকে বিবিসি বাংলার অমিতাভ ভট্টশালী বিবিসি-কে জানিয়েছেন, মেঘালয় পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের দু’জন কর্মকর্তা হাসপাতালের প্রিজন ওয়ার্ডে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তারা কী জানতে পেরেছেন সেটি প্রকাশ করেননি।

 
এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অনেকটা হঠাত্ করে নির্দিষ্টভাবে র্যাবের কাছে সালাহউদ্দিনকে ফেরত চেয়ে গত ১০ মে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শিলংয়ে সালাহউদ্দিনের খোঁজ মেলা নিয়েও রাজনৈতিক মহলসহ বিভিন্ন মহলে চলছে নানা জল্পনা। খালেদা জিয়ার বিবৃতির সঙ্গে দুই মাস ধরে নিখোঁজ সালাহউদ্দিনের সন্ধান পাওয়ার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি-না, তা নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। এছাড়া সালাহউদ্দিনের খোঁজ মেলার পর বিএনপির কৌশলী নীরবতাকেও রহস্যাবৃত্ত মনে করা হচ্ছে।
 
সালাহউদ্দিনের বিষয়ে বিএনপি চুপ কেন? গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এরকম এক প্রশ্নের জবাবে দলটির যুগ্ম-মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, ‘বিএনপি নিশ্চুপ নয়, কৌশলগত দিক আছে। সালাহউদ্দিন নিজেও এখনও অনেক বেশি আতঙ্কগ্রস্ত। আমরা আশা করি তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’ তার বক্তব্যের পর অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘মোহাম্মদ শাহজাহান কৌশলগত শব্দটি বলতে চাননি।  কোনো কৌশল নয়, আমরা চাই আগে সালাহউদ্দিন ফিরে আসুন। তার প্রকৃত অবস্থা জানা দরকার। তার পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মেঘালয়ে যেতে চাচ্ছেন। তারা সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলার পর প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে। এরপর বিএনপি বক্তব্য দেবে।’ সালাহউদ্দিন আহম্মেদকে নিয়ে ‘নিষ্ঠুর ও নির্দয়’ মন্তব্য না করে মানবিক আচরণের মাধ্যমে তাকে ভারত থেকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনতেও সরকারের যথাযথ সহায়তা কামনা করেছেন বিএনপির এই দুই নেতা। জানা গেছে, সালাহউদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ গতকাল পর্যন্ত ভারতের ভিসা পাননি।
 
অন্যদিকে, সালাহউদ্দিনকে ফেরত চেয়ে ইন্টারপোলের ঢাকা অফিস থেকে একটি ‘রেড নোটিস’ জারি করা হয়েছে বলে কলকাতার একটি পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে। এই প্রসঙ্গে গতকালের সংবাদ সম্মেলনে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘ইন্টারপোলের রেড নোটিস- এটা নাথিং। ইন্টারপোল হচ্ছে সারাবিশ্বের পুলিশদের একটি সংগঠন। যে নোটিসটি দেয়া হয়েছে, সেখানে সালাহউদ্দিন সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিই প্রতিফলিত হয়েছে, এর ভিন্ন কিছু নয়।’
 
সালাহউদ্দিন নিজেই পুলিশের কাছে যান!
 
গতকাল বিবিসি’র বাংলা খবরে বলা হয়েছে, সালাহউদ্দিনের দু’জন আত্মীয় প্রথমবারের মতো গতকাল বিকেলে তার সঙ্গে শিলং শহরের সিভিল হাসপাতালে দেখা করেছেন। আত্মীয়দের একজন নিজেকে আইয়ুব আলী পরিচয় দিয়ে জানান, তিনি কলকাতার বাসিন্দা এবং সালাহউদ্দিনের দূর সম্পর্কের ভাই। অপরজনের নাম জানা যায়নি।
 
হাসপাতালে সালাহউদ্দিনের সঙ্গে দেখা করার পর ওই দুই আত্মীয় সাংবাদিকদের জানান, সালাহউদ্দিন তাদেরকে জানিয়েছেন-তাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় কয়েকবার গাড়ি বদল করে শিলং নিয়ে যাওয়া হয়। শিলংয়ের পলোগ্রাউন্ডে তাকে চোখ বাঁধা অবস্থাতেই গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। চোখের বাঁধন খোলার পরেও বুঝতে পারছিলেন না তিনি কোথায় আছেন। স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারেন যে, তিনি শিলংয়ে আছেন। বিবিসি’র খবরে আরও বলা হয়, এই দুজন সাংবাদিকদের এ-ও জানান, সালাহউদ্দিন নিজেই এরপর শিলং পুলিশের কাছে গিয়ে নিজের পরিচয় দেন। যদিও এর আগে গত মঙ্গলবার শিলং পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, স্থানীয় লোকজন সালাহউদ্দিনকে উদভ্রান্তের মতো ঘুরতে দেখে থানায় খবর দেন। এরপর পুলিশ তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যায়।
 
বিবিসি’র খবরে জানানো হয়, সালাহউদ্দিনের সঙ্গে দেখা করতে তার চাচাতো ভাই হুমায়ুন রশিদসহ পরিবারের সদস্যরা গতকাল শিলং পৌঁছান। সালাহউদ্দিনের সঙ্গে প্রথমে তাদের দেখা করার অনুমতি দিয়েছিলেন শিলংয়ের পুলিশ সুপার (এসপি)। কিন্তু পরে সেই অনুমতি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। দেখা করতে না পেরে তারা ফিরে যান। এছাড়াও সালাহউদ্দিনের সঙ্গে দেখা করতে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ  জনি ও স্বপন নামের দুজন নেতাও শিলংয়ে পৌঁছেছেন বলে বিবিসি’র বাংলার খবরে বলা হয়েছে।
 
বিবিসি’র খবরে সালাহউদ্দিনের যে ছবি দেখানো হয়েছে, তাতে দেখা যায় তার মুখমণ্ডল দাঁড়ি-গোঁফ রয়েছে। ফলে হাসপাতালে নেয়ার সময়কার যে ছবি ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে ছাপা হয়েছে তার সঙ্গে এই ছবির তফাত রয়েছে।
 
‘অপহরণকারীরা ফেলে যায়’
 
‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র এক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ‘প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী শিলংয়ের মারুতি জিপসি এলাকায় অজ্ঞাতনামা অপহরণকারীরা তাকে ফেলে দিয়েছে।’ বুধবার আসাম ট্রিবিউন লিখেছে ‘মেঘালয়ের সঙ্গে দেশটির ৪৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের নিরাপত্তায় যে ফাটল রয়েছে, নিরাপত্তা প্রহরীদের ফাঁকি দিয়ে ভারতে সালাহউদ্দিনের প্রবেশের ঘটনায় তা প্রমাণিত হলো।’