চার মুখোশধারীকে খুঁজছে পুলিশ

সিলেটে মঙ্গলবার লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ (৩২) হত্যার ঘটনায় এখনো কোন কূলকিনারা হয়নি। শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি হামলাকারীদের। দুই দিনেও সন্দেহভাজন কোন আসামি আটক হয়নি। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘাতকদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। প্রযুক্তির ব্যবহারসহ প্রচলিত সবরকম পদ্ধতি অবলম্বন করে তদন্ত কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিজ্ঞানমনস্ক মুক্তমনা লেখক অনন্তকে ‘ধর্মান্ধ জঙ্গিরাই হত্যা করেছে, এটা অনেকটা নিশ্চিত ধরেই’ তদন্তকাজ অগ্রসর হচ্ছে। অনন্তের উপর হামলাকারী মুখোশধারী সেই চার জঙ্গিকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। তাদের ধরতে ইতোমধ্যে নগরীর একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। এদিকে অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার প্রতিবাদে ও খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবারও সিলেটে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বিকালে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উদীচীর আয়োজনে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। বিক্ষোভ-মিছিল সমাবেশ হয়েছে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। আজ শুক্রবার বিকালে গণজাগরণ মঞ্চ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংহতি সমাবেশ করবে।

 
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) রহমত উল্লাহ গতকাল সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে বলেন, খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
 

জানা যায়, আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের ৮৪ জনের একটি হিট লিস্টে অনন্ত বিজয় দাশের নাম ছিল। ঢাকায় ব্লগার-লেখক অভিজিত্ রায়কে হত্যার ঘটনায় সিলেট থেকে আটক ফারাবীর কাছ থেকে এই লিস্ট উদ্ধার করে পুলিশ। সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র দেবাশীষ দেবু জানান, নিহত অভিজিত্ রায়ের সঙ্গে অনন্ত বিজয় দাশের নিয়মিত যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা ছিল। অভিজিতের বাবা অধ্যাপক অজয় রায়ের সাথেও অনন্তের পরিচয় ছিল। খুন হওয়ার একদিন আগেও অনন্তকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন অজয় রায়।