রিয়ালকে কাঁদিয়ে ফাইনালে জুভেন্তাস

সারা ফুটবল বিশ্বই এক নজিরবিহীন রোমাঞ্চের আশায় নড়েচড়ে বসেছিলো। ৬ জুন বার্লিনে ‘গ্রেটেস্ট ক্ল্যাসিকো’ দেখার প্রস্তুতি ছিলো। বার্সেলোনা আগে থেকেই ফাইনালে উঠে বসেছিলো। অপেক্ষা ছিলো বুধবার রাতে জুভেন্টাসকে হারিয়ে তাদের মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু সেই স্বপ্ন এবং সান্তিয়াগো বার্নব্যুর হাজার হাজার মানুষের বুক ভেঙে দিয়ে চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠে গেল নতুন চেহারা, নতুন ফুটবল নিয়ে আবির্ভূত হওয়া ইতালিয়ান জায়ান্ট জুভেন্টাস।

 
সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে বুধবার স্বাগতিক রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও দুই লেগে ৩-২ গোলে এগিয়ে থেকে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে জুভরা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সফলতম দলটিকে কান্নায় ভাসালেন গতবছরই তাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয়ী দলের সদস্য আলভেরো মোরেতা; যার গোলেই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মূল্যবান ড্র পায় অতিথি জুভেন্তাস। জুনের ৬ তারিখ বার্নিলে অনুষ্ঠেয় ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ বার্সেলোনা, যারা সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়েছে।
 
জুভেন্তাস সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বার্নাব্যুতে এসেছিলো। প্রথমার্ধেই স্বাগতিক দলের তারকা স্ট্রাইকার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পেনাল্টি থেকে গোল করলে অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলে কোচ কার্লো অ্যানচেলত্তির দল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিকদের এমন স্বপ্ন ভেঙে দেন মোরেতা। গত জুলাইয়ে রিয়াল ছাড়া আক্রমণভাগের এই খেলোয়াড়টিই ৫৭ মিনিটে জুভেন্তাসকে মূল্যবান গোলটি এনে দেন, যেই গোলে দীর্ঘ ১২ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের টিকিট পেলো ইতালিয়ান জায়ান্টরা।
 
নিজেদের মাঠে রিয়াল ড্র করলেও গোল করার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সুযোগ পেয়েছিলো। খেলা শুরুর প্রথম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি গ্যারেথ বেল। ষষ্ঠ মিনিটে দ্বিতীয় সুযোগটি হাতছাড়া করেন করিম বেনজেমা। দশম মিনিটে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক পেয়েছিলেন রোনালদো। অল্পের জন্য বল জালে জড়াতে পারেননি তিনি। পক্ষান্তরে জুভেন্তাসের কার্লোস তেভেস, আর্টুরো ভিদাল, পল পগবা মাঝে-মধ্যেই রিয়ালের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করছিলেন। কিন্তু ইকার কাসিয়াসকে খুব একটা ব্যস্ত রাখতে পারেননি তারা। এমন অবস্থায় গিওর্গিও চিয়েলিনির এক ভুলে এগিয়ে যায় রিয়াল। গোল বক্সের ভেতর তিনি হামেস রদ্রিগেসকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। রোনালদোর নেয়া এই পেনাল্টি শটে ২৩তম মিনিটে এগিয়ে যায় রিয়াল। 
 
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে ইতালির চ্যাম্পিয়নরা। পাল্টা-আক্রমণে তাদের ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করে আনচেলোত্তির শিষ্যরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা খুব একটা সফল হয়নি। ৫৭তম মিনিটে রিয়াল সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেন মোরেতা। পগবার হেড থেকে বল পান এই স্ট্রাইকার। বুক দিয়ে বল নামিয়ে জোরালো শটে কাসিয়াসকে পরাস্ত করেন তিনি। এই গোলে রিয়ালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ১১তম শিরোপা জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়, বহুল কাঙ্ক্ষিত ফাইনালের টিকিট পায় জুভেন্তাস। ১৯৮৫ ও ১৯৯৬ সালে শিরোপা জেতা তুরিনের দলটি তাদের সাত ফাইনালের শেষটি খেলেছিল ২০০৩ সালে। 
 
বার্লিনে অনুষ্ঠেয় ফাইনাল লড়াইটা বার্সেলোনা-জুভেন্তাস মধ্যকার হওয়ায় আবারো একে অপরের মুখোমুখি হবেন লুই সুয়ারেজ ও গিওর্গিও চিয়েলিনি। ব্রাজিল বিশ্বকাপে ইতালিয়ান ডিফেন্ডার চিয়েলিনিকে কামড়ে ধরার অপরাধে চার মাসের জন্য সব ধরনের ফুটবল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন উরুগুয়ান তারকা সুয়ারেজ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক তারকা প্যাট্রিস ইব্রার সঙ্গেও মুখোমুখি হতে হবে বার্সা তারকা সুয়ারেজকে। লিভারপুলে থাকাকালীন যার সঙ্গে বর্ণবাদী আচরণ করে নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হয়েছিলো তাকে।
 
চলতি মৌসুমেই ম্যান ইউ ছেড়ে জুভেন্তাসে নাম লেখানো ইব্রা জানালেন সুয়ারেজের সঙ্গে অতীত ঘটনাতে খুব বেশি নজর নিচ্ছেন না তিনি, অতীতে যাই হোক না কেন ফাইনালে উরুগুয়ান স্ট্রাইকারের সঙ্গে হাত মেলাবেন এই লেফট-ব্যাক। সেই সঙ্গে নিজের পরিচয়টা মাঠেই দিতে চান বলে জানালেন ইব্রা, ‘এটা কোনো ব্যাপার না; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটা হলো- আমি ফাইনাল খেলবো। আমি যা তাতে আমি খুব খুশি, আমি আমার গায়ের রং নিয়েও সন্তুষ্ট এবং আমি তার সঙ্গে হাত মেলাবো, এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে আমি মনে করি, আমি কী এটা মাঠে সে এটা অনুভব করতে পারবে।’
 
ফাইনালে শক্তিশালী বার্সার বিপক্ষেও ভালো জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে ইব্রা বলেন, ‘অবশ্যই, আমরা তাদের (বার্সাকে) হারাতে পারবো। কেননা তারা মানবজাতিই। তবে মানুষ ভুলেই গেছে যে, জুভেন্তাসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা অনেক খেলোয়াড় রয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলেছে—আমিসহ এমন অনেক খেলোয়াড় রয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটা আমার পঞ্চম ফাইনাল।’—সুপার স্পোর্টস, দ্যা গার্ডিয়ান
 
ফাইনাল
 
৬ জুন, ২০১৫
 
ভেন্যু :অলিম্পিক স্টেডিয়াম
 

বার্লিন।