দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমে যাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের মাধ্যমেই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে হবে। তবে বৈদেশিক সহায়তা বাড়ানোর প্রক্রিয়াও অব্যাহত রাখতে হবে। ‘এসডিজি অর্থায়নে এশীয় অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী বিশেষজ্ঞ সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ সব কথা বলেন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অব গভার্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমের্ন্ট এবং সাউদার্ন ভয়েস অন পোস্ট এমডিজির যৌথ উদ্যোগে শনিবার রাজধানীর ব্র্যাকের ইন সেন্টারে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাউদার্ন ভয়েসের সভাপতি ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এমপি। প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সদস্য আরাস্তু খান, বিশ্বব্যাংকের পূর্ব এশিয়ার পভার্টি গ্লোবাল প্রাক্টিস ম্যানেজার সালমান জায়েদি এবং ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অব গভার্নেন্স এন্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমান।
আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘এসডিজি বাস্তবায়ন সব দেশের জন্যই ইতিবাচক। তবে তা বাস্তবায়নে অনেক অর্থের প্রয়োজন। এ জন্য অভ্যন্তরীণ খাত থেকে অধিক রাজস্ব আদায় করতে হবে। এ পথে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা চাই করহার অল্প হলেও সবাই করের আওতায় আসুক। এ ছাড়া, এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বৈদেশিক সহায়তারও প্রয়োজন আছে।’
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের জন্য রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হবে। এ জন্য, উন্নত দেশগুলো আমাদের শ্রমিক ও পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে সহায়তা দিতে পারে।’
প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা এশিয়ার সব দেশেই কমেছে। বেশির ভাগ দেশই অভ্যন্তরীণ রাজস্বের মাধ্যম উন্নয়ন করছে। এ অবস্থায় দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক দেশই নানা কারণে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারছে না।’
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রেমিট্যান্স আয় বাড়াতে হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানো দরকার। তবে বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে অনেক বেশি যুক্ত হওয়ায় বৈশ্বিক ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। এ ছাড়া, বৈদেশিক সহায়তা বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি সঠিক তদারকি ও জবাবদিহি না থাকলে যথাযথভাবে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।’