মুশফিকের টেস্ট অধিনায়কত্ব নিয়ে নতুন অবস্থানে পাপন

ক দিন আগেই একটি ইংরেজি পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, পাকিস্তান সিরিজে টেস্ট অধিনায়কত্ব ‘পুওর’ হয়েছে এবং অধিনায়কত্ব নিয়ে ভাবছেন তিনি। কিন্তু শনিবার নিজের বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে আবার বললেন, মুশফিকের অধিনায়কত্ব নিয়ে চিন্তিত নন তিনি; চিন্তিত ত্রিমুখী ভূমিকায় মুশফিকের ওপর তৈরি হওয়া চাপ নিয়ে। 
 
পাকিস্তান সিরিজে টেস্ট অধিনায়কত্ব নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সে ব্যাপার নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন পাপন।
 
তিনি বললেন, সিদ্ধান্ত কোনোটাই অধিনায়ক একা নেননি, ‘দুই-একটা প্রশ্ন এসেছে লাস্ট টেস্টের কয়েকটি ডিসিশনের ব্যাপারে। যেটা নিয়ে কনফিউশন আছে আমার কাছে- কোচ বলেন, ম্যানেজম্যান্ট বলেন; ওইভাবে কোনো ধরনের কমপ্লেইন করেনি। তবে আমি ওই সময়টাতে লন্ডনে ছিলাম। ব্যাটিং না নিয়ে ফিল্ডিং নিয়েছে কেন; আমারও মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সাথে সাথে আমি ফোন করে সাকিবকে পাই।
 
সাকিবকে জিজ্ঞেস করি, যদিও সাকিব ক্যাপ্টেন না; সাকিব বলে, আমরা সবাই মিলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওই সময় মাঠের কন্ডিশন অনুযায়ী ওটাই ভালো মনে হয়েছে। যদি আমাদের পেসার ইনজুর না হতো আরলি উইকেট পাবো অলমোস্ট সবার এটা ধারাণাছিল। ব্যাড-লাক যে ইনজুরড হয়ে গেছে।’
 
পাপন মানলেন যে, মুশফিকের অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তিনি তার আগে বলা কথাটাই বললেন যে, প্রশ্ন উঠলেও এ বছর অধিনায়ক বদলানোর সম্ভাবনা নেই, সুযোগও নেই, ‘এটা নিয়েও কথা হয়েছে মুশফিকের ক্যাপ্টেন্সিতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে কী না। আমি বলেছি এই বছরের মধ্যে তো নাই্। দ্বিতীয়ত আমি এটাও বলেছি, আপনি যে এটা বলছেন আমাদের তো কোনো অপশনও নাই। এখন যে টিম আমাদের আছে। মুশফিকের চেয়ে বেটার অপশন আমাদের এখানে নাই।’
তবে পাপন বারবারই পরিষ্কার করতে চাইলেন যে, তার দুশ্চিন্তা আসলে মুশফিকের ওপর বেশি চাপ তৈরি হয়ে যাওয়া নিয়ে, ‘একটা মানুষের পক্ষে তিনটা জিনিশ করা কষ্টকর। একটা হচ্ছে সারাদিন ধরে উইকেট কিপিং করা, তারপর ব্যাটিংয়ে লম্বা ইনিংস খেলা। মুশফিক  আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ন ব্যাটসম্যান। আমি বলোবো সবচেয়ে ভোলো ব্যাটসম্যান। তারপরও আবার ক্যাপ্টেন্সি করা। এটা একটা প্রেসার সেটা আমরা জানি। উইকেট কিপিং করতে গিয়ে সে ইনজুরড হলো—এটা তার ব্যাটিংয়েও প্রভাব পড়ছে। লাস্ট টেস্টে সে ঠিকমতো ব্যাট করতে পারে নাই। এটা আমাদের জন্য একটা বিরাট লস।’
 
এরপরই পাপন বললেন, তাদের সামনে সুযোগ থাকলে অধিনায়কত্ব নয়, আগে মুশফিকের কাছ থেকে উইকেট রক্ষণের চাপটা কমাতেন, ‘মুশফিকের মতো খেলোয়াড়ের যদি তিনটার কোনোটা ছাড়তে হয় আমি ক্লিয়ারলি বলেছি ফাস্ট উইল বি উইকেট কিপিং। সেটারও আমাদের তো এখন সুযোগ নাই। বিজয় যদি ওপেন করতো তাহলে কিন্তু একটা অপশন ছিল। তাকে দিয়ে আমরা উইকেট কিপিং করাতে পারি। এটা কিন্তু ইচ্ছা করলেই করা যায় না। টিমের কম্বিনেশনের উপর নির্ভর করে। তবে আমাদের কাছে ওর ব্যাটিংটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটা মুশফিককেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে সে কোনটা ছাড়তে চায় কিংবা চায় না।’
 
এক পর্যায়ে বিসিবি সভাপতি পরিষ্কার করে দিলেন, টেস্টে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি জয় এনে দেওয়া অধিনায়ককে সরানোর কোনো চিন্তা তাদের নেই, ‘মুশফিককে রিপ্লেস করার মতো কোনো চিন্তাই এখনো পর্যন্ত আমরা করিনি। এটা সেদিনও বলেছি আজকেও বলছি।