সফর নিশ্চিত জিম্বাবুয়ের, ম্যাচ কর্মকর্তা পাঠাবে না আইসিসি

তিন দিনের নাটকীয়তা আর দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি শেষে নির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী পাকিস্তান সফরের ঘোষণা দিয়েছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট (জেডসি)। দুই সপ্তাহের সফরে আগামীকালই লাহোর পৌঁছাবে তারা। প্রায় ছয় বছর পর আইসিসির কোন পূর্ণ সদস্যের এটা হবে প্রথম পাকিস্তান সফর।
 
তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই সফরে নিজেদের কোন ম্যাচ অফিশিয়াল কিংবা আম্পায়ারকে পাঠাবে না ক্রিকেটের  সর্বোচ্চ সংস্থাটি।
 
গত বুধবার করাচিতে ইসমাইলি সম্প্রদায়ের বাসে সন্ত্রাসী হামলায় মারা যান কমপক্ষে ৪৫ জন। এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বেঁকে বসে জিম্বাবুয়ে। নারকীয় এই হামলার পর জিম্বাবুয়ের সর্বোচ্চ ক্রীড়া কমিশন স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন কমিশনের (এসআরসি) সুপারিশ করে পাকিস্তানে না যাবার। 
 
সে কারণেই বৃহস্পতিবার বিকালে নিজেদের ওয়েবসাইটে জেডসি জানায়, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সফর বাতিল করেছে তারা। মাত্র ১৬ মিনিটের মধ্যেই সেই বিবৃতি তুলে নিয়ে তারা আবার জানায়, সফর বাতিল নয় বরং নিরাপত্তা নিয়ে এখনো ভাবছে তারা।
 
তবে বারবারই সমর্থকদের আশ্বস্ত করা পিসিবি প্রধান অটল থাকেন তার বক্তব্যেই। সর্বশেষ বক্তব্যেও তিনি জোর দিয়ে বলেন সফর নিয়ে কোন অনিশ্চয়তা নেই।
 
যদিও পিসিবির ঠিক উল্টো বক্তব্য আসে জেডসির পক্ষ থেকে। প্রায় একই সময়ে তারা জানায়, সফরের বিষয়ে স্থির কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি তারা। 
 
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উইলফ্রেড মুকোনডিওয়া বলেন, ‘এই সফরের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন কতৃপক্ষের সাথে আমরা যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারিনি।’
 
তবে শেষ পর্যন্ত এসআরসির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই পাকিস্তান আসছে জিম্বাবুয়ে দল। 
 
ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানায়, সুপারিশ অমান্য করায় দলের সদস্যদের একটি চুক্তিপত্রে সাক্ষর করে আসতে হচ্ছে। সম্পূর্ণ নিজের দায়িত্বে এবং স্বেচ্ছায় পাকিস্তান যাচ্ছি, বলে উল্লেখ আছে সেই ঘোষণাপত্রে।
 
এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে দলের বেশ কিছু সদস্য প্রথমে সফরে রাজি ছিলেন না বলেও জানায় ওয়েবসাইটটি।
 
এর আগে জিম্বাবুয়ের নিরাপত্তা দল এবং বোর্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেল লাহোরে পৌঁছে ঘুরে ফিরে দেখেন দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য খুঁটিনাটি। জানান নিজেদের সন্তুষ্টির কথাও।
 
তাদের দেয়া প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ১৬ সদস্যের দলও ঘোষণা করে জিম্বাবুয়ে। এরপর হঠাৎ করেই এই নাটকীয়তা। যদিও পিসিবির পক্ষ থেকে বারবার নিশ্চয়তা দেয়া হলেও জেডসি ছিল নিরব।
 
লাহারো দুই টি-টোয়েন্টির প্রথমটি অনুষ্ঠিত হবে ২২ মে, দ্বিতীয় ম্যাচ ২৪ তারিখ। তিনটি ওয়ানডে যথাক্রমে ২৬, ২৯ ও ৩১ মে।
 
২০০৯ সালে সফররত শ্রীলঙ্কা দলের বাসে সন্ত্রাসী হামলায় মারা যান পুলিশ সদস্যসহ আটজন। কুমার সাঙ্গাকারা, থিলান সামারাবিরাসহ আহত হন সাত লঙ্কান ক্রিকেটার। এরপর থেকে আইসিসির পূর্ণ সদস্য কোন দেশ পাকিস্তান সফরে যায়নি। ফলে জিম্বাবুয়ে সফরে দেশটিতে ক্রিকেট ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ মানা হচ্ছে।
 
পাকিস্তানে শুরু হতে যাওয়া এ সিরিজে কোন ম্যাচ কর্মকর্তা না পাঠানোর বিষয়টি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটকে ইতোমধ্যেই ক্রিকেটের বিশ্ব নির্বাহী সংস্থা জানিয়ে দিয়েছে। আইসিসি’র নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
 
নিজস্ব নিরাপত্তা পরামর্শকের রিপোর্ট পাওয়ার পর এমন সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি। নিরাপত্তা নিয়ে শংকা থাকায় বিদেশি দলগুলো এবং ম্যাচ কর্মকর্তারা পাকিস্তান সফরে যেতে চায় না।
 
আলোচিত এ সিরিজ অনুষ্ঠিত হলে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে স্থানীয় কর্মকর্তারাই ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবে বলে এপ্রিল মাসের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আইসিসি। পাকিস্তানে বর্তমান নিরাপত্তা শংকার কারণে নিজস্ব আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারি না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি। 
 
তবে নিজেদের প্লেয়িং কন্ডিশনের মান অনুযায়ী না হলেও এ সিরিজের ম্যাচগুলোকে ‘আনুষ্ঠানিক ক্রিকেট’ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে আইসিসি। পিসিবি খুব শিগগিরই আম্পায়ার ও রেফরিদের নিয়োগ দেবে ।