যমুনা রিসোর্ট: ৮ সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ

 
যমুনা রিসোর্টের বিষয়ে হাইকোর্টের দেয়া রুল আট সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ। সোমবার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।
 
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে এই আদেশ দেয়। একই সঙ্গে যমুনা রিসোর্টে স্থিতাবস্থার আদেশও বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।
 
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আইনজীবী আবদুন নূর দুলাল  জানিয়েছেন, আপিল বিভাগ আট সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেছে। এই রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বহাল থাকবে।
 
যমুনা রিসোর্টের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ও ব্যারিস্টার মারগুব কবির। ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
 
বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব তীরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ও কালিহাতী উপজেলায় অবকাশযাপন কেন্দ্র গড়ে তুলতে ১৯৯৯ সালের ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৩০ বছর মেয়াদে প্রায় ১৬২ হেক্টর জমি ইজারা নেয় যমুনা রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ। চুক্তি অনুসারে পাওনা পরিশোধ ও সার্টিফিকেট অব সেটিসফেকশন (সিএস) স্বাক্ষর না করার কারণ দেখিয়ে জেআরএলের সঙ্গে ঐ চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সেতু কর্তৃপক্ষ।
 
পরে ১ এপ্রিল চুক্তি বাতিলের নোটিস দেয়া হলে জেআরএল কর্তৃপক্ষ ঢাকা জেলা জজ আদালতে সালিশী মামলা করে। আদালত প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২ এপ্রিল সিদ্ধান্তের ওপর স্থিতাবস্থা দেয়। শুনানি শেষে ২২ এপ্রিল  আবেদনটি খারিজ করে দেয় আদালত। এই আদেশের বিরুদ্ধে জেআরএল হাইকোর্টে গেলে গত ২৩ এপ্রিল নোটিস স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারি করে আদালত।
 
জেআরএলের মামলা খারিজের আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না- রুলে তা সেতু কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চায় হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে নোটিসের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করে।
 
আদেশ স্থগিতের আবেদন নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ গত ২৬ এপ্রিল চেম্বার আদালতে গেলে বিচারক বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়ে যমুনা রিসোর্টের উপর স্থিতাবস্থা দেন বিচারক।
 
পরে ৩০ এপ্রিল শুনানি করে আপিল বিভাগ নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলে। এই আবেদনের নিষ্পত্তি করেই আজ আপিল বিভাগ রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিল।