পালপাড়া পোড়ানো সন্ত্রাসী মোরশেদ গ্রেফতার

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া পালপাড়া গ্রামের শতাধিক সংখ্যালঘু পরিবারের  হিন্দু সমপ্রদায়ের আতঙ্ক মোরশেদ বাহিনীর প্রধান মোরশেদকে (৩৪) পুলিশ অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার দিনগত রাত ৩টার দিকে আড়িয়া বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে মোরশেদের ভাই তারাজুল ও তারাজুলের শ্বশুরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
 
এ দিকে মোরশেদের মদদ তাকে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে  বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে থানা ভবনের সামনে এসে প্রায় পৌনে ১ ঘণ্টা অবস্থান ধর্মঘট পালন করে আড়িয়া পালপাড়ার হিন্দু সমপ্রদায়ের প্রায় অর্ধসহস্রাধিক মানুষ। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেফতারের আশ্বাসে ঘরে ফিরে যান বিক্ষোভকারীরা । 
 
জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিয়িনর সহকারি পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) গাজিউর রহমান জানান, মোরশেদ ও তার বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পালপাড়ার হিন্দু সমপ্রদায়ের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। মোরশেদ বাহিনীর লোকেরা বিভিন্ন সময়ে পালপাড়ায় চাঁদাবাজি করতো। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তার বাড়িঘর ভাঙচুর ও মারপিট করতো। এমনকি বিভিন্ন সময় পালদের তৈরি মাটির জিনিসপত্র ভাঙচুর এবং মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
 
মোরশেদের কোনো দলীয় পরিচয় পাওয়া না গেলেও বিভিন্ন সরকারের সময় ক্ষমতাসিনদের ছত্রছায়ায় থেকেই তিনি এসব অপকর্ম করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার অত্যাচারে পালপাড়ার কয়েকটি পরিবার দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
 
পালাপাড়ার বাসিন্দারা জানান, ২০১২ সালে এক কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর প্রদীপ পাল নামের একজন দুই কন্যা আর স্ত্রীকে নিয়ে ভারতে চলে যান। সপরিবারে দেশ ছাড়েন শ্যামাপদ পাল ও শ্যামা পাল। গত বছর পাড়ার ডাবলু পালের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন মোরশেদ। সাত দিনের মধ্যে না পেলে তার স্ত্রীকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেন। এর চার দিনের মাথায় স্ত্রীকে নিয়ে ভারতে পালিয়ে যান ডাবলু পাল।
 
স্থানীয়রা আরও জানান, মূলত ২০০৩ সাল থেকেই মাদক ব্যবসার পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেন মোরশেদ। এর মধ্যে ২০১০ সালে আড়িয়াবাজারে একটি ঘর দখল করে সেখানে শুরু করেন মাদক ব্যবসা। এরপর মাদক ব্যবসা ও আধিপত্যের বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের লয়া মিয়া নামের একজনকে হত্যার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়।
গত ২৭ এপ্রিল গ্রামের বাসিন্দা উত্পল চন্দ্র পালের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মাটির জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন মোরশেদ ও তার লোকজন।
 
এদিকে পালপাড়ার বাসিন্দা পরিতোষ চন্দ্র শীল, ওমরেষ মাষ্টার, নবরঞ্জন পাল, অঞ্জলী রানী পাল, চাম্পা রানী পাল, সন্ধা রানী পাল ও পার্বতী রানী পাল সহ অনেকে জানান, মোরশেদের মদদ দাতা উপজেলার রহিমাবাদ দক্ষিণপাড়ার দলিল লেখক সাজ্জাদ হোসেন (৩৩)। তাকেও গ্রেফতার করার দাবি জানান তারা ।
 
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মান্নান জানান , সন্ত্রাসী মোরশেদকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার সন্ত্রাসী বাহিনীর অপর সন্ত্রাসীদের নাম পাওয়া গেছে। পাশাপাশি আরো ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। অপর আসামীদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
 
ওসি আরও জানান, মোরশেদ পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী । মোরশেদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা আছে। এর মধ্যে হত্যা ও মাদকের মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। সর্বশেষ চাঁদাবাজির মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ।  পালপাড়ার এখন কোন আতংক নেই । সেখানে পুলিশের টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন সেখানে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে ।