মিশরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ও মুসলিম ব্রাদারহুড সমর্থকদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
২০১১ সালে মোবারক বিরোধী গণঅভ্যুত্থানের সময় কারাগার ভেঙে কয়েদিদের বের করে আনার ঘটনায় মুরসিসহ এক শ'র বেশি লোককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে মিশরের একটি আদালত।
আরব বসন্তের সময় গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতনের পর ক্ষমতায় আসেন মুরসি। এক বছরের মধ্যে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন সেনাপ্রধান ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসি মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এরপর ২০১৪ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হন সিসি।
গণবিচারে মুরসিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পর মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন ‘আমরা বিচার ব্যবস্থার স্বার্থে বিচারের যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ এবং সকল মিশরীয়র জন্য আলাদা বিচার প্রক্রিয়া সম্পাদনের প্রয়োজনীয়তার ওপর অব্যাহতভাবে গুরুত্বারোপ করছি'।
ইইউ'র শীর্ষ কূটনীতিক ফেডারিকা মগহেরেনি বিচারপ্রক্রিয়াকে ত্রুটিপূর্ণ ও গণবিচারে শতাধিক ব্রাদারহুড সমর্থকের মৃত্যুদণ্ডকে 'সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন' আখ্যা দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় জোটের বিশ্বাস আপিলে রায়ের পরিবর্তন ঘটবে।
কারাগার ভেঙে পালানো ও গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধে মিশরের ক্ষমতাচ্যুত ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিসহ আরও শতাধিক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।
সহিংসতায় উসকানি দেয়ার দায়ে আরেকটি মামলায় ইতিমধ্যে মুরসির ২০ বছরের সাজা হয়েছে। শনিবারের রায়ে আরও মৃত্যুদণ্ড হয়েছে মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ বাদি এবং তার সহকারী খয়রাত আল-শাতেরের। হত্যা এবং পুলিশ অপহরণের দায়ে বাদিকে আরেকটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায়ে সাজাপ্রাপ্তদের অনেকেই পলাতক রয়েছেন। সূত্র: এএফপি