ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে পারেন সিলংয়ে গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমেদ। তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সালাহ উদ্দিন মেঘালয় পুলিশ কর্মকর্তাদের তার এই ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
মেঘালয় পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১১ মে শিলংয়ের গলফ কোর্স এলাকায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে ঢাকায় অপহরণ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন। ফরেনার্স আইনে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অসুস্থ থাকায় তাকে মেঘালয়ের একটি হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হয়। সালাহ উদ্দিন সুস্থ হলেই তাকে আদালতে পেশ করা হবে। বিভিন্ন সময়ে তিনি অনেক কিছু মনে করতে পারছেন না বলে জানাচ্ছেন। যদিও চিকিত্সকরা তার স্মৃতিভ্রম হয়েছে এমনটা খুঁজে পাচ্ছেন না।
কয়েকদিন আগে কলকাতা থেকে সালাহ উদ্দিনের এক ভাই ও বি এন পির নেতা হাসপাতালে তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তাদের সঙ্গে সালাহ উদ্দিন ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করার পর তারা সাংবাদিকদের সে কথা বলেছেনও।
মেঘালয় পুলিশ সূত্রে খবর, সালাহ উদ্দিন বলেছেন, তাকে অপহরণ করে দু'মাস রাখা হয়েছিল। এখনি দেশে ফিরলে ফের তাকে অপহরণ করা হতে পারে। প্রাণনাশের আশংকা রয়েছে। তাই তিনি কিছুদিনের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয় পেতে চান। তবে তার স্ত্রী শিলং এলে তিনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
সালাহ উদ্দিনের রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার ভাবনাটি নিয়ে বিপাকে পড়েছে শিলং পুলিশ। সালাহ উদ্দিনকে তারা বলেছেন লিখিত আবেদন পেলে তারা বিষয়টি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাবে।
দিল্লির সাউথ ব্লক সুত্রে খবর, অনুপ্রবেশ আইনে গ্রেপ্তার হলেও সালাহ উদ্দিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি কিভাবে ভারতে এসেছেন তা জানা নেই, তাই তিনি লিখিত আবেদন করলে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। তার প্রাণনাশের আশংকা কতটা তা খতিয়ে দেখা হবে।
এর আগে সোমবার সকালে সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গুয়াহাটির উদ্দেশে রওনা হন। দুপুরে গুয়াহাটি থেকে সড়ক পথে শিলংয়ের পথে যান। সন্ধ্যায় তিনি শিলং পৌঁছান।