কর অব্যাহতি পেল গ্রামীণ ব্যাংক

নোবেল বিজয়ী ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক অবশেষে বহুল আলোচিত ৬ মাসের কর অব্যাহতি পেয়েছে। ফলে ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের প্রায় ৭৭ কোটি টাকা কর দিতে হবে না প্রতিষ্ঠানটিকে। উপরন্তু কর হিসেবে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি যে আংশিক অর্থ পরিশোধ করেছে তাও ফেরত পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো। আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর সম্প্রতি রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক আদেশে কর অব্যাহতি দিয়েছে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি আলোচ্য ছয় মাসের আগে ও পরে কর অব্যাহতি পেয়েছে বা পেয়ে আসছে। এ বিবেচনায় এনবিআর তাদের কর অব্যাহতি দেয়া যেতে পারে মর্মে মত দিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে এই আদেশ জারি করা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে যে কর পরিশোধ করেছে তা ফেরত দেয়া হবে না। ভবিষ্যতে কোন কর প্রাপ্য হলে তার সাথে সমন্বয় করা হবে বলে জানান তিনি। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কর অব্যাহতির সুযোগ চাওয়া হলেও ভূতাপেক্ষ কর (অতীতে কর্তিত কর) ফেরত দেয়া হয় না - এমন যুক্তিতে এনবিআর ওই সময়ের জন্য কর অব্যাহতি দিতে অপারগতা জানায়। ইতিমধ্যে গ্রামীণ ব্যাংক ১০ কোটি টাকা অগ্রিম কর পরিশোধ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশের ৩৩ ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি সব ধরনের কর অব্যাহতি সুবিধা পেয়ে আসছিল। গ্রামীণ ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিন বছর পর পর এই মেয়াদ নবায়ন করা হয়। কিন্তু ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংকের কর অব্যাহতির আবেদনের সিদ্ধান্তটি ঝুলে থাকে। অর্থাত্ এনবিআর সিদ্ধান্ত না নেয়ায় করের আওতায় পড়ে যায় প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীকালে এনবিআর ২০১১ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিকে কর অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মাঝের ছয় মাসের কর অব্যাহতির বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না এনবিআর। তবে সর্বশেষ গতবছরের জুনে এনবিআরের বোর্ডসভায় কর অব্যাহতি দেয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসে। এর পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রায় একবছর পর এ আদেশটি জারি হলো।

 
এদিকে গ্রামীণ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি আবারো ৫ বছরের কর অব্যাহতি চেয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে তিন বছরের কর অব্যাহতির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার মোজাম্মেল হক এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে সময় বাড়ানোর এ আবেদন জানিয়ে একটি চিঠি পাঠান। ওই চিঠিতে গ্রামীণ ব্যাংককে আগামী জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের আয়কর, সুপার ট্যাক্স, ব্যবসায় মুনাফা কর প্রদান থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করা হয়।
 

গ্রামীণ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে গ্রামীণ ব্যাংক ২ হাজার ৫৬৮টি শাখার মাধ্যমে প্রায় ৮৬ লাখ ৫৪ লাখ সদস্যের মধ্যে এ ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। গ্রামীণ ব্যাংক বছরে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করছে। এ ঋণের আদায়ের হার ৯৮ দশমিক ১৪ শতাংশ।