মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধের ডাক নাগরিক কমিটির

স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্র ও অপ-প্রচার রোধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। 
 
মঙ্গলবার রাজধানীর রমনায় বিটিআরসি ভবনের সভাকক্ষে জাতীয় নাগরিক কমিটির এক সভায় বিশিষ্টজনরা এ আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
 
ছিটমহল সমস্যা সমাধানে অবদান রাখায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে নাগরিক গণসংবর্ধনা দিতে এ প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক কমিটি। আগামী ২৯ মে বিকাল ৩টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে সাব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হককে চেয়ারম্যান করে গঠন করা হয়েছে ২০১ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় নাগরিক কমিটি। এ কমিটি ইতিমধ্যে গণসংবর্ধনার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। গণসংবর্ধনায় একটি মানপত্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শেখ হাসিনার সাফল্য গাথা জীবন এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রা তুলে ধরে ৪-৫ পৃষ্ঠার প্রবন্ধ উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। 
 
মঙ্গলবার প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক কমিটির চেয়ারম্যান সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বাংলাদেশকেই মেনে নিতে চায় না। তাই তাদের বিরুদ্ধে আজ আমাদের কথা বলার সময় এসেছে। 
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা একের পর এক অর্জন করছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের লোকসভায় স্থল সীমান্ত চুক্তি পাশ হয়েছে। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতত্বেই সম্ভব হয়েছে। এ জন্য আগামী ২৯ মে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্দ্যানে বিকাল ৩টায় প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হবে। এই সংবর্ধনার মাধ্যমে দেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। 
 
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে কঠিন দিনগুলো পার করেছে। এক সময় মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তিরা আওয়ামী লীগকে চিরতরে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করতে চেয়েছিল। স্বাধীনতার মূল্যবোধকে ধ্বংস করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। কিন্তু ১৯৮১ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসে আবার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। 
 
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গির কবির নানক, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, কার্যনির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সুজিত রায় নন্দি, সম্মিলিক সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কামরুল হাসান খান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হারুন-অর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুর আহসান বুলবুল, বাসদ আহ্বায়ক রেজাউর-রশিদ খান, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুর রহমান সেলিম, সাংবাদিক শফিকুর রহমান, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দ্র মজুমদার, গণসংগিত শিল্পী ফকির আলমগীর প্রমুখ।