অবৈধ পণ্য ও মত্স্য আহরণ, সমুদ্রে জলদস্যুতা এবং সমুদ্র পথে মানবপাচার প্রতিরোধে কোস্ট গার্ড অধিদপ্তরকে আরো শক্তিশালী করতে একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬৮ কোটি টাকা। ‘এনহ্যান্সমেন্ট অব অপারেশনাল ক্যাপাবিলিটি অব বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড’ নামক প্রকল্পের আওতায় ৩টি ইনশোর পেট্রোল ভেসেল, ৬টি বড় হাই স্পিড বোটসহ একটি ভাসমান ক্রেন কেনা হবে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে কোস্ট গার্ড অধিদপ্তর জানুয়ারি ২০১৫ থেকে আগস্ট ২০১৮ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
গতকাল রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় মোট ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। মোট ব্যয় ১৫৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৫৬৬ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২৫ কোটি টাকা।
একনেক পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মানবপাচার বেড়ে যাওয়ায় সরকার কোস্ট গার্ড অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মন্ত্রী এসময় আরো বলেন, কোস্ট গার্ডকে অধিকতর শক্তিশালী করতে আগামীতে আরো কিছু প্রকল্প একনেকে উত্থাপন করা হবে।
সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো— রাজশাহী শহরের যানজট কমাতে ১২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী কল্পনা সিনেমা হল থেকে তালাইমারী মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প। ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই সড়ক উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প। গাজীপুর-আজমতপুর-ইটাখোলা সড়কের চরসিন্দুরে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প।
এ প্রকল্পের ফলে উত্তর-বঙ্গ থেকে সিলেট পর্যন্ত সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে চন্দ্রা দিয়ে সহজেই গাজীপুর কালিগঞ্জ হয়ে সিলেটে চলে যাওয়া যাবে। এছাড়া অন্য প্রকল্প হচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চািঞ্চলের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প, কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলাধীন সোনাহাট ব্রিজের সন্নিকটে ভুরুঙ্গামারী-মাদারগঞ্জ সড়ক পথকে দুধকুমার নদীর ভাঙ্গন হতে রক্ষা এবং কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ হতে বজরা সিনিয়র মাদ্রাসা পর্যন্ত তিস্তা নদীর ভাঙ্গন হতে রক্ষা এবং কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ হতে বজরা সিনিয়র মাদ্রাসা পর্যন্ত তিস্তা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্প।
এছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পেওর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার ৫৪/১, ৬৪/১বি এবং ৬৪/১ সি এর সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পুনর্বাসন প্রকল্পেরও একনেক সভায় অনুমোদন দেয়া হয়।