মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মাহিদুর রহমান ও আফসার হোসেন ওরফে চুটুর বিরুদ্ধে দেয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহীদ পরিবারের স্বজনরা।
এর আগে বুধবার একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মাহিদুর ও আফসারকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তাদের বিরুদ্ধে আনীত তিনটি অভিযোগের মধ্যে দুটি প্রমাণিত হয়েছে। ১ নম্বর অভিযোগে তাদেরকে সর্বসম্মতিক্রমে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ২ নম্বর অভিযোগে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগটি বাদ দেয়া হয়েছে।
মাহিদুর ও আফসারসহ ১২ জনের নামে প্রথম চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদালতে মামলা করেছিলেন ১৯৭১ সালে বাবাকে হারানো শিবগঞ্জের মনাকষা ইউনিয়নের পারচৌকা গ্রামের শহীদ মুসলিম উদ্দীনের ছেলে বদিউর রহমান বুদ্ধু। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, এই দুই রাজাকার ১৯৭১ সালে ৬ ও ৭ অক্টবর মনাকষা, বিনোদপুর ও দুর্লভপুরের আমার বাবাসহ ৪০ জন নিরীহ মানুষকে হত্যো করেছে, ধর্ষণ করেছে অনেক মা-বোনকে। এমনকি অনেক বাড়ি-ঘর পুড়িয়েছে। আশা করেছিলাম তাদের ফাঁসি হবে। কিন্তু আদালত তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে।
তিনি বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি, এই রায়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি যাতে হয় সেজন্য আপিলের উদ্যোগ নেব।
উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চানশিকারী গ্রামের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ফজলুর রহমানের ছেলে আঃ রাকিব হোসেন বলেন, রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি, আমার বাবাসহ ৩৯ জন লোককে হত্যার সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরও যদি তাদের শাস্তি আমৃত্যু কারাদণ্ড হয় তবে আর কতজনকে হত্যা করলে তাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতো?
বিনোদপুর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ রুহুল আমিন জানান, আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ে আমি সন্তষ্টু হতে পারেনি, তবে মেনে নিচ্ছি।
শিবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ বজলার রহমান সোনু জানান, এই রায়ে আমরা হতাশ হয়েছি, আজ সন্ধ্যার পরে শিবগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা বসে রায়ের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিব।
এদিকে রায় ঘোষণার পর বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এলাবাকাবাসী আনন্দ মিছিল বের করে।