হৃদরোগের সঙ্গে কিডনিতে পাথর সালাহউদ্দিনের

 
‘নিখোঁজের’ দুই মাস পর ভারতের শিলংয়ে গ্রেপ্তার বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। তার কিডনিতে পাথর ধরা পড়েছে। ভুগছেন চর্ম ও হৃদরোগেও। দুই পা ফুলে যাওয়া বেশিক্ষণ দাঁড়িয়েও থাকতে পারছেন না, দাঁড়ালে হাত-পা কাঁপছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলংয়ের সিভিল হাসপাতালের ইউটিপি সেল থেকে স্থানান্তর করে বুধবার বিকেল ছয়টার দিকে তাকে মেঘালয়ের নর্থ ইস্টার্ন ইন্দিরা গান্ধী রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড মেডিকেল সায়েন্স, শিলং (নেগ্রিমস) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
 
সিভিল হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় ৫৪ বছর বয়সী সালাহ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, তার শারীরিক অবস্থা মোটেও ভালো নয়। সুস্থতার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। তার চিকিত্সার ব্যবস্থা করার জন্য তিনি মেঘালয় রাজ্য সরকার ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। কড়া পুলিশি পাহারায় তাকে বিশেষায়িত হাসপাতাল নেগ্রিমসে নেয়া হয়।
 
দুপুরে সিভিল হাসপাতালে সালাহ উদ্দিনের চিকিত্সক জি কে গোস্বামী সাংবাদকিদের জানিয়েছেন, সালাহ উদ্দিনের কিডনিতে পাথর ধরা পড়েছে। তার আরও কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে। তার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের শল্য চিকিত্সক মনে করেন, তার কিডনি চিকিত্সার জন্য আর বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার। এ সুবিধাগুলো সিভিল হাসপাতালে নেই। এজন্য দুপুরে তাকে নেগ্রিমসে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়। এই সুপারিশের ভিত্তিতেই বিকেলে তাকে নেগ্রিমসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
 
সকালে শিলংয়ের সিভিল হাসপাতালের বিচারাধীন মামলার আসামিদের ওয়ার্ডে হাসিনা আহমেদ তৃতীয়দিনের মতো স্বামীর সঙ্গে দেখা করেন।
 তিনি সাংবাদিকদের জানান, সালাহ উদ্দিনকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার আগে তার উন্নত চিকিত্সাকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। সালাহ উদ্দিন কিডনি ও হার্টের রোগী। তার পা ফুলে যাওয়ায় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে কাঁপতে থাকেন। তার আরও উন্নত চিকিত্সা দরকার। এজন্যই তিনি স্বামীকে সিঙ্গাপুর নিতে চান। হাসিনা আহমেদের দাবি, এর আগে সিঙ্গাপুরেই সালাহ উদ্দিনের হূত্যন্ত্রের অস্ত্রোপচার হয়েছিল। বরাবরই তিনি সেখানে চিকিত্সা নিয়ে আসছেন। সেই চিকিত্সার কাগজপত্র নিয়েই হাসিনা শিলংয়ে গেছেন।
 
সালাহউদ্দিনের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে শিলংয়ে অবস্থানরত বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি গতকাল সাংবাদিকদের জানান, সালাহ উদ্দিন চর্মরোগ ও প্রোসেস্টের কিছু সমস্যায়ও ভুগছেন। সালাহ উদ্দিন ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করছেন কিনা, জানতে চাইলে জনি বলেন, ‘শিলং সিভিল হাসপাতালে খাবার-দাবারের ব্যাপারে বেশ কড়াকড়ি। সেখানে বাইরের কোনো খাবারই ভেতরে নেওয়া যায় না। চিকিত্সাধীন ব্যক্তিদের হাসপাতাল থেকেই খাবার সরবরাহ ও তদারকি করা হয়।’
 
এদিকে, সালাহ উদ্দিনের পক্ষে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলায় লড়বেন মেঘালয় রাজ্য হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এসপি মাহান্ত। সালাহউদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আইনজীবী মাহান্তের সঙ্গে দেখা করে মামলার বিষয়ে দীর্ঘসময় পরামর্শ করেন। গতকাল সকালে আবারও আইনজীবীর বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলে আসেন তিনি।
 
হাসিনা আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের আইন অনুযায়ী কোন পথে যাওয়া ভালো হবে, তা বুঝে তিনি পদক্ষেপ নেবেন বলে মাহান্ত তাদের আশ্বস্ত করেছেন। হাসিনা আহমেদ কয়েকবার হাসপাতালে গিয়ে স্বামীর সঙ্গে দেখা করলেও এখন তিনি আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছেন বলেও জানান।
 
হাসিনা আহমেদের সঙ্গে থাকা এক আত্মীয় জানান, উন্নত চিকিত্সার জন্য সালাহ উদ্দিনকে সিঙ্গাপুরে নিতে তারা প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরুর চেষ্টা করছেন। অবশ্য অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা থাকার কথা জানিয়ে ভারতীয় পুলিশ বলেছে, সালাহ উদ্দিনের শিগগিরই মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ভারতীয় আইনজীবীরা জানিয়েছেন, পুলিশ হাসপাতাল থেকে সালাহ উদ্দিনকে আদালতে হাজির করলে বাংলাদেশের প্রাক্তন এই প্রতিমন্ত্রীকে ভারতের কারাগারে যেতে হবে। আর আদালতে হাজির করার পর যদি সেদেশের সরকার তাকে ফেরত পাঠানোর আবেদন করে, আদালত তা বিবেচনা করতে পারে।
 
শিলং টাইমস সরকারি আইনজীবীদের বরাতে খবর দিয়েছে, যেহেতু বাংলাদেশের আইনে সালাহ উদ্দিন একজন অভিযুক্ত, সেজন্য দুই দেশের মধ্যকার কিছু পদক্ষেপের বিষয়ে হাসপাতালের মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের উত্তরে আইনজীবীরা পত্রিকাটিকে জানান, ফরেনার্স এ্যাক্টে কেউ আটক হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছর  জেল। তবে দেশভেদে ভারতে এ সাজার রকমফেরও রয়েছে।