অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, এক সময়ের প্রমত্ত পদ্মা পার হতে এখন আর নৌকা কিংবা লঞ্চের প্রয়োজন হয় না। ঘোড়ার গাড়ি অথবা পায়ে হেঁটেই পার হওয়া যায়।
বেশি দিন আগের কথা নয়, প্রচণ্ড স্রোতস্বিনী প্রমত্ত পদ্মার গর্জনে মাঝি মাল্লারা সাহস পায়নি পদ্মার বুকে তার খেয়া নৌকা চালাতে, জেলেরা সাহস পায়নি তার মাছ ধরতে যেতে। এমনকি অনেক সময় পদ্মার উঁচু ঢেউ আর দানবীয় গর্জনের মুখে ফেরি এবং স্টিমারের মত ভারি নৌযানও চলতে সাহস পায়নি।
শুধু তাই না সে সময় পদ্মার বিশাল বড় বড় ঢেউ আর প্রচণ্ড স্রোতের গর্জনে পদ্মা পাড়ের মানুষ ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। অথচ কালের আবর্তনে সেই প্রমত্ত পদ্মা শুকিয়ে শীর্ণ একটি খালে পরিণত হয়েছে। গোটা পদ্মার বুক জুড়ে পড়েছে ধু ধু বালুচর। পাবনার বাংলা বাজার খেয়া ঘাট হতে কুষ্টিয়ার শিলাইদহ খেয়া ঘাট পর্যন্ত পদ্মা নদীর দূরত্ব প্রায় ৩ কি.মি। ৪/৫ মাস আগেও পাবনা এবং কুষ্টিয়া জেলার হাজার হাজার মানুষ ব্যবসা বাণিজ্যসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ওই খেয়া ঘাট থেকে নৌকাযোগে পদ্মা নদী পার হয়েছেন। অনেকে ঐ ঘাট দিয়ে নৌকাযোগে পদ্মা নদী পার হয়ে শিলাইদহ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠি বাড়ি এবং কুষ্টিয়া শহরের অদূরে লালন শাহ’র মাজার দর্শনে গিয়েছেন। কিন্তু মাত্র ৪/৫ মাসের ব্যবধানে বিশাল পদ্মা শুকিয়ে বালু চর জেগে উঠায় নদী পার হতে প্রকৃতপক্ষে কোনো নৌকা লাগছে না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৩ কি.মি দীর্ঘ এই পদ্মার বুক জুড়ে কেবল চর আর চর। শুধু নদীর দক্ষিণ প্রান্তে অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠি বাড়ির অদূরে রয়েছে মাত্র ২‘শ গজ দীর্ঘ শীর্ণকায় পদ্মা নদী যা, নৌকায় পার হতে লাগে মাত্র ৬/৭ মিনিট। এর বাইরে দীর্ঘ প্রায় ৩ কি.মি পদ্মার ধু ধু বালুচরই পার হতে হয় ঘোড়ার গাড়িতে, পায়ে হেঁটে কিংবা সাইকেল বা মোটর সাইকেল চালিয়ে।