ব্লগার হত্যাকারী ও বিশিষ্টজনদের হত্যার হুমকিদাতারা একই কী না তা নিয়ে সন্দেহ খোদ স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রীর। তিনি জানান, নিষিদ্ধ আনসারুল্লাহ নামের সংগঠনের আড়ালে অন্যকোন গোষ্ঠীর এই কাজে যোগসূত্রতা আছে কী না সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'ব্লগার হত্যায় জড়িতদের সঙ্গে ওই হুমকিদাতাদের ভিন্নতা রয়েছে। ব্লগাররা ভিন্ন ভাবনায় কাজ করেন আর যাদের হুমকি দেয়া হয়েছে তারা দেশ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছেন।'
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন চিঠি পাঠিয়ে হত্যার হুমকি পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকসহ অন্যান্যদের নিরাপত্তার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) আয়োজিত সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সভাপতি শ্যামল সরকার। উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যু বিশেষ করে মানব পাচার, সাগর রুনী হত্যা, নাশকতার মামলার বিচার. বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নেরও জবাব দেন স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী। তিনি ডিসিসি নির্বাচনের সময় সাংবাদিক লাঞ্ছনার জবাবে বলেন সাংবাদিক সরকারের বন্ধু। তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ কাম্য নয়।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাগরে ভাসমান যারা বাঙালী এবং এদেশের নাগরিক তাদেরকে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের কোন আপত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাড়ে চারশো বর্গকিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে যা দুর্গম। সেখানে শুধুমাত্র রহিঙ্গারাই প্রবেশ করে এবং এ পথেই তারা বাংলাদেশ হয়ে অন্যান্য দেশে যাওয়া চেষ্টা করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'পুলিশসহ সকল আইন শৃঙ্খলা কর্মী এখন জনগণের বন্ধু। জনগণের জানমাল রক্ষা তাদের নিরাপত্তা দিতে সাম্প্রতিক সময়ে ১২০ জন পুলিশের প্রাণ গেছে। এরমধ্যে বিএনপি জামায়াতের নাশকতায় একজন নিহত আর ৩৩৯ জন আহত হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, আনসার ভিডিপির সদস্যদের সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি সকল কার্যক্রম আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।' এসময় একটি পুলিশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল করার ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী।
বিশিষ্ট নাগরিকদের হুমকির পর কি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বা হুমকিদাতাদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না-এই প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'ব্লগারদের হত্যা আর বিশিষ্টজনদের হুমকি আমার কাছে মনে হয় এটার ভেতরে কিছু পার্থক্য রয়েছে।'
'আনসারুল্লাহ বাংলা টিমিএকটি নিষিদ্ধ সংগঠন, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বলেই এখন চালিয়ে যাচ্ছে, যারাই এ সমস্ত কাজ করছে তাদের উদ্দেশ্যটা কিন্তু একটাই, স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ও গণতন্ত্রের কণ্ঠ রোধ করা ।'
'সে যেই হোক আনসারুল্লাহ বাংলা টিম হোক আর নতুন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম হোক কিংবা তার নাম দিয়ে আরো বাংলা টিম হয়ে থাক আমরা তা অনুসন্ধান করে বের করবো তাদের শাস্তির আওতায় আনবো।'