প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে ব্যবসায়ীদের জন্য চমক থাকছে। সরকার দেশের স্বার্থে ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। তারই অংশ হিসেবে আগামী বাজেটে ব্যবসায়ীদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। কী দেওয়া হবে সে বিষয়ে এখন কিছু বলবো না। বাজেট উত্থাপনকালে অর্থমন্ত্রীই জানাবেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সীমান্ত বিজয়ে অসামান্য অবদান রাখায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্লোগান ছিল ‘দেশহীন দিশাহীন মানুষ পেল দেশ ও দিশা, পেল মুক্তির স্বাদ।’ বিকাল ৪টায় ১২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত সকলে দাঁড়িয়ে তুমুল করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ব্যবসা করতে ক্ষমতায় আসেনি, আমরা ব্যবসায়ী নই। আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করি। ব্যবসায়ীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে দিচ্ছি। কারণ ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটলে দেশের অর্থনীতির ভিত মজবুত হয়। দেশের জনগণ যাতে সুবিধা ভোগ করতে পারে সেদিকে নজর দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করার জন্য তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু নিজেদের স্বার্থে নয়, দেশের স্বার্থে ব্যবসায়ীদের কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থল সীমান্ত বিজয়কে একটি মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, দেশের উন্নয়নের সকল চুক্তিই বাঁধাগ্রস্থ করেছে বিএনপি-জামায়াত। তবে অপপ্রচার মোকাবেলা ও সব বাধা অতিক্রম করে দীর্ঘদিনের ছিটমহল সমস্যার সমাধান হচ্ছে। এ বিজয় জনগণের। বহুল প্রত্যাশিত এ বিজয়কে দেশের জনগণের প্রতি উত্সর্গ করে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এরমধ্যে অন্যতম হলো ১৯৭৪ সালের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি। বঙ্গবন্ধু প্রতিটি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার অঙ্গিকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্থল সীমান্ত চুক্তি সম্পাদনে সংবিধান সংশোধনের অনুমোদন দেয়ায় ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছে। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কও উন্নত করছে।
প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে পদক্ষেপ নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশে রফতানির পাশাপাশি দেশেও বাজার সৃষ্টি করতে হবে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা যত বাড়বে, তত বাজার সমপ্রসারিত হবে। এতে দেশের উন্নয়ন হবে।
ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশ-ভরত-নেপাল-ভুটান যৌথ ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর ব্যবস্থা করেছি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-মায়ানমার-চীনেও যৌথ ব্যবসার ব্যবস্থা করেছি। এটা ব্যবসায়ীদের জন্য সুখবর।
শেখ হাসিনা বলেন, সীম্ন্ত চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের অংশে আসা ছিটমহলবাসীর খাবার, শিক্ষা, যোগাযোগসহ সব ধরনের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।