সন্ধ্যা ও গাবখান নদীর ভয়াবহ ভাঙনে কাউখালীর আমড়াজুরী ফেরিঘাট বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে আমড়াজুরী ফেরিঘাট ও বাড়ি-ঘর। যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে পিরোজপুর-স্বরূপকাঠী রুটের গাবখান চ্যানেলের আমড়াজুরী ফেরি চলাচল।
গত বুধবার দুপুর থেকে হঠাত্ গাবখান নদীর পাশে অবস্থিত বাজারের একদিক থেকে ভাঙন শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই নদী গহ্বরে দেবে যেতে থাকে একের পর এক এলাকা। এ সময় দোকানিরা তাদের মালামাল সরাতে শুরু করে। সরেজমিনে দেখা যায় ওই বাজারের বিরাট অংশজুড়ে দেখা দিয়েছে অসংখ্য ফাটল। বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সিদ্দিক জানান, আমড়াজুরী মূলবাজার এখন নদীর মাঝখানে। গত দুই বছরে নদী ভাঙনের কারণে ২৪ বার ফেরিঘাট স্থানান্তর করতে হয়েছে। ভেঙে যাচ্ছে নদীর দুই তীরের অসংখ্য বাড়ি-ঘর।
পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাউখালী অঞ্চলের এক কর্মকর্তা জানান, সন্ধ্যা নদীর ভাঙনের কারণে ফেরিঘাটের দুই প্রান্ত ভেঙে যাচ্ছে। গত দুই বছরে আমড়াজুরী ফেরিঘাটের উত্তর পাড় ২১ বার এবং পূর্ব পাড় তিন বার স্থানান্তর করতে হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সন্ধ্যা নদীর দুই তীরের আমড়াজুরী, আশোয়া, কুমিয়ান, গন্দর্ব আমড়াজুরী আবাসন, সোনাকুর এলাকার পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীভাঙনের ফলে ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ের নিচের মাটি সরে গেছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে যান উঠা নামা করছে। আশোয়া আমড়াজুরীর বাসিন্দা আবুল বাশার বলেন, প্রতিবছর সন্ধ্যা ও গাবখান নদী ভাঙে। গত ২০ বছরে সন্ধ্যার করাল গ্রাসে আশোয়ার কয়েকশ’ বাড়ি, ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। গত এক মাসে আমড়াজুরী বাজারের ছয়টি দোকান নদীতে ভেঙে গেছে। জরুরিভিত্তিতে নদী শাসনের উদ্যোগ না নিলে ঘাট, বাজার ও বাড়ি-ঘর রক্ষা করা যাবে না।
আমড়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষ্ণ লাল গুহ বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ভাঙন রোধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যুগ যুগ ধরে সন্ধ্যা নদী ভাঙছে। প্রতিদিন এ জনপদের মাটি, স্থাপনা ও বৃক্ষরাজি সন্ধ্যার করাল গ্রাসে চলে যাচ্ছে।