ভিটে-মাটি বিক্রি করে দালাল আব্দুর রোউফ এর চাহিদা অনুযায়ী ২ লাখ ২৭ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিলেও সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার জালালপুর গ্রামের হতদরিদ্র তাঁত শ্রমিক আব্বাস আলীকে (২২) ফিরে পায়নি তার পরিবার। পরিবারটি একমাত্র সম্বল বসতবাড়ি এবং ছেলে দুই-ই হারিয়েছেন। তাই দিন-রাত চোখের পানিতে বিলাপ করে তার বৃদ্ধ বাবা-মা বলে চলেছেন, নির্দয় দালালরা মুক্তিপণের ট্যাহাও নিল আবার ছাওয়ালডারেও গায়েব করে দিল।
মোহাম্মদ ইলিয়াস, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, মালয়েশিয়ায় চাকরির লোভে পড়ে অর্থ-সম্পদ সবই হারিয়ে ফেলেছেন লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের চাকফিরানী দুলুকের পাড়ার মৃত ইউসুফের ছেলে ছিদ্দিক আহমদ (৪৫)। দালালদের মৃত্যুকূপে গিয়েও কোনো রকমে প্রাণ নিয়ে ফিরে এসেছেন। ছিদ্দিক প্রথমে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। সেখানে আর্থিকভাবে বিশেষ সুবিধা করতে না পেরে দেশে ফিরে আসেন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি মালয়েশিয়া যান। পাচারকারীরা চাকরি দেয়ার নামে তাকে তিন দালালের হাতে তুলে দেয়। ১৯ এপ্রিল দালালরা তাকে নিয়ে যায় থাইল্যান্ড সীমান্তের একটি ভবনে। সেখানে দালালরা তাকে থাইল্যান্ডের একটি চক্রের হাতে বিক্রি করার প্রস্তুতি নিতে থাকে। ছিদ্দিক বিষয়টি বুঝতে পারলে তার উপর নির্যাতন শুরু হয়। তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চাওয়া হয় ২ লাখ টাকা। ছিদ্দিক তাদের পায়ে ধরে প্রাণভিক্ষা চেয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় তাদের রাজি করায়। তার স্ত্রী ভিটে-বাড়ি বন্ধক রেখে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জোগাড় করে কক্সবাজারের শাহ মিম আকতার নামে এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়ে দেয়। ২২ এপ্রিল ব্যাংক এশিয়া কক্সবাজার শাখার ০৪৬৩৪০০৫৮৫০ নম্বর হিসেবে এ টাকা জমা হয়। থাইল্যান্ডের দালালরা টাকা পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে ছিদ্দিককে ছেড়ে দেয়। সেখান থেকে কোন মতে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।