এখনো ঘোর ভাঙে না তোর যে, মেলে না তোর আঁঁখি,/ কাঁটার বনে ফুল ফুটেছে রে, জানিস্ নে তুই তা কি ।
ওরে অলস, জানিস্ নে তুই তা কি ?/ জাগো এবার জাগো, বেলা কাটাস না গো।।
এই বোধন সঙ্গীতের মধ্য দিয়েই এবারের ‘জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের’ বার্ষিক সম্মেলন থেকে শিল্পীরা জাগরণের ডাক পাঠালেন।
উদ্বোধনী পর্বেও অনুষ্ঠানে সভাপতি ড. সন্জীদা খাতুনও গানের কথার সঙ্গে মিলিয়েই বললেন, শিক্ষা ছাড়া মানুষ জাগে না, অন্ধকার বিলুপ্ত হয় না। ম্লানমুখে ভাষা দিতে হবে। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তা ছড়িয়ে দিতে হবে।
সন্জীদা খাতুন বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানুষকে সবচেয়ে বড় করে দেখেছেন। তাঁর সাধনা ছিল আগে বাঙালি হওয়া, পরে বিশ্বমুখী হওয়া। অথচ দুঃখের বিষয় আমরা আগেই বিশ্বমুখী হই, দেশমুখী হই না।
অনুষ্ঠান শুরুর আগেই ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তন সরগরম হয়ে উঠেছিল সারাদেশ থেকে আসা রবীন্দ্র সঙ্গীতের শিল্পীদের আনাগোনায়। এবারের আয়োজনে অংশ নিয়েছে দেশের নানা অঞ্চল থেকে আসা ছয় শতাধিক শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠক। তাদের কথায়, গানে, আর হুটোপুটিতে প্রাণ পেয়েছে যেন ছায়ানট। মূল মিলনায়তনে শুরু হয় উদ্বোধনী পর্ব।
চৌত্রিশতম বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন করেন ড. অনুপম সেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্মিলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমেদ লিসা।
সভাপতিত্ব করেন সম্মিলন পরিষদের সভাপতি সন্জীদা খাতুন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সদ্যপ্রয়াত শিল্পী তপন ভট্টাচার্যেও স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর অতিথিরা মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে উত্সবের উদ্বোধন করেন।
এ সময় উদ্বোধক ড. অনুপম সেন বলেন, মাইকেল মধুসূদন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে ভিত্তি দিয়েছিলেন আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গেন ভাষা ও সাহিত্যকে পূর্ণতা দেন। রবীন্দ্রনাথ শুধু ভাষাকেই নয় বাঙালির জাতিস্বত্ত্বারও রূপ দিয়েছিলেন।
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয় সঙ্গীতানুষ্ঠান। দলীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিমু রানী দে, মুস্তাফিজুর রহমান তূর্জ ও শ্রাবণী মজুমদার। একক নৃত্য পরিবেশন করেন দীপংকর বিশ্বাস। আর নৃত্য শর্মিলী বন্দ্যেপাধ্যায়ের পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা।
পরবর্তী দু’টি দিনের সান্ধ্য অধিবেশন সাজানো হয়েছে গুণীজনের সুবচন রবিরশ্মি, আবৃত্তি, পাঠ, নৃত্য ও গান দিয়ে।
অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন শনিবার বিকাল চারটায় অনুষ্ঠিত হবে সেমিনার। এবারের বিষয় আবুল মোমেনের লেখা প্রবন্ধ ‘রাষ্ট্র ও ধর্ম : রবীন্দ্র ভাবনা ও বর্তমান বাস্তবতা’। এ পর্বে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সভাপতি সন্জীদা খাতুন। আলোচনায় অংশ নেবেন ডা. সারওয়ার আলী ও মফিদুল হক। দৈনিক আয়োজন রবিরশ্মিতে কথা বলবেন বিশিষ্টজনেরা।
এদিকে, কিশোর ও সাধারণ সঙ্গীত প্রতিযোগিতার বাছাই পর্ব শুরু হয়েছে উদ্বোধনের আগের দিন বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে।
শুক্রবার দুপুরে কিশোর বিভাগের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং শনিবার সকালে সাধারণ বিভাগের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। উভয় বিভগের পুরস্কার এবং গুণী সম্মাননা ও রবীন্দ্র পুরস্কার প্রদান করা হবে রবিবার বিকেলের সমাপনী অধিবেশনে। বার্ষিক অধিবেশন উপলক্ষে যথারীতি প্রকাশিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির নানা দিক নিয়ে বিশিষ্টজনদের লেখা প্রবন্ধের সংকলন সঙ্গীত সংস্কৃতি।