অটিজম মোকাবিলায় বিনিয়োগ বাড়ালে সমাজ লাভবান হবে

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, অটিজম মোকাবিলায় বিনিয়োগ বাড়ালে সমাজ অধিক লাভবান হবে। গতকাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৬৮তম সম্মেলনে ‘অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারস—ফ্রম রেজুলেশন টু গ্লোবাল অ্যাকশন’ শীর্ষক পার্শ্ব সভায় স্বাগত বক্তব্যদানকালে তিনি আরো বলেন, অটিজমের জটিলতা এবং সার্বিক প্রভাব ব্যাপক। এটা ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে বিশ্বের জনস্বাস্থ্য সমস্যায় অটিজম ও মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাকে প্রাধান্য দিয়ে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে সচেষ্ট হতে হবে।

 
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ, ভারত, ইতালি, জাপান, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, রোমানিয়া, থাইল্যান্ড ও ভুটানের স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা এই সভায় বক্তব্য রাখেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজারি গ্রুপের সদস্য সায়মা ওয়াজেদ হোসেন এই অনুষ্ঠানে বিশেষ প্রবন্ধ পাঠ করে অটিজম নিয়ে বিশ্বব্যাপী এবং বাংলাদেশে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরবর্তী করণীয় তুলে ধরেন। ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগত্ প্রকাশ নাড্ডা এতে সভাপতিত্ব করেন।
 
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ সময় গত বছরের ৬৭তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘কমপ্রিহেনসিভ অ্যান্ড কোঅর্ডিনেটেড এফর্টস ফর দ্য ম্যানেজমেন্ট অব অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারস’ শীর্ষক প্রস্তাবনা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হওয়ায় সংস্থার সকল সদস্য রাষ্ট্রকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান। 
 
অটিজম মোকাবিলায় বাংলাদেশে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরবর্তী করণীয় তুলে ধরে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন বলেন, ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত অটিজম মোকাবিলায় বাংলাদেশে ব্যাপক সফলতা এসেছে। এ বিষয়ে দেশের মানুষ এখন ধারণা অর্জন করেছে। গড়ে উঠেছে সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইন ও জাতীয় নীতিমালা প্রণীত হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের তালিকা সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে। দেশের শিক্ষক, স্বাস্থ্য সেক্টরের চিকিত্সক, নার্স এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা অব্যাহত রয়েছে। অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। সম্মেলনে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সফলতা পেতে বাড়াতে হবে ক্ষমতায়ন এবং শিক্ষিত অভিভাবকের সংখ্যা। পলিসি ও লিগ্যাল ফ্রেমওওয়ার্কসমূহ চিহ্নিত করতে হবে। সব স্টকহোল্ডারকে  এগিয়ে আসতে হবে। বাড়াতে হবে ক্যাপাসিটি বিল্ডিং। দেশের বিদ্যমান সরকারি অবকাঠামো, বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান অবকাঠামোতে প্রতিবন্ধী ইস্যুসমূহ সম্পৃক্ত করতে হবে। আর গড়ে তুলতে হবে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তা এবং এ বিষয়ে মনিটরিং ও গবেষণা চালানো দরকার ।
 
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেক্টরের উন্নয়নের
 
প্রশংসা করেছেন মার্গারেট চ্যান
 
এদিকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেক্টরের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. মার্গারেট চ্যান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কয়েক দশক ধরে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং গড় আয়ু বৃদ্ধিতে দেশটি যে অসাধারণ অগ্রগতি সাধন করেছে তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের এ সাফল্য থেকে এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের অনেক কিছুই গ্রহণ করার আছে। নারী ও শিশু স্বাস্থ্য রক্ষায় বাংলাদেশের সাফল্য  বিশ্বে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। একত্রিত হয়ে কাজ করলে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় আমরা জয়ী হতে পারব।
 
শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৬৮তম সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক আলোচনায় মহাপরিচালক এসব কথা বলেন। আলোচনায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটির চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিশু মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেক্টরের দক্ষতা  ও বাজেট বৃদ্ধি এবং অটিস্টিক তথা প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্বব্যাংকের মহাপরিচালক ড. মার্গারেট চ্যানকে আগামী নভেম্বরে এইচআইভি-এইডস আক্রান্তদের নিয়ে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য ‘আইক্যাপ’ সম্মেলনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাশে সব সময় থাকবে বাংলাদেশ।
 

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও এগিয়ে নিতে অর্থবরাদ্দ বাড়াতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালকের প্রতি আহ্বান জানান।