সারাদেশে বাস ধর্মঘটের হুমকি

 
সোহাগ পরিবহনের গ্রেফতারকৃত চালক ও হেলপারদের মুক্তি, পরিবহনে ডাকাতির ঘটনায় মামলা না নিয়ে হয়রানি এবং ফরিদপুরের পুলিশ সুপার ও মধুখালি থানার ওসির প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো খুলনা বিভাগে পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা দক্ষিণাঞ্চলের ডাকা অনিদির্ষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন।
 
 শনিবার দুপুরে যশোর বাস মালিক সমিতির কার্যালয় এক সংবাদ সম্মেলন করে  এ হুমকি দেয়া হয়।
 
তবে সম্মেলনে তিন দফার দাবির সঙ্গে আরো একটি দাবি যুক্ত করেছেন। তারা বলেছেন, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার জামিল হাসান শুক্রবার বিকালে এক সংবাদ ব্রিফিয়ে শ্রমিক ও মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়।
 
সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে আটক শ্রমিকদের মুক্তি ও দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সারা দেশে পরিবহন ধর্মঘট শুরু করা হবে। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খুলনা বিভাগীয় মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম-আহবায়ক আলী আকবর।
 
নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান খান বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য তিনি সড়ক ও সেতু পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে কথা বলেছেন। আশা যাচ্ছে দুএক দিনের মধ্যে বিষয়টির একটি সমাধান হবে।
 
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ সুপারের বক্ত্যব্যের কারণে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ আরে বেড়েছে। তিনি শুনেছেন দেশের অন্যান্য স্থানে এ ধর্মঘট নিয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন গুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে।
 
বাংলাদেশ  সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার  এনায়েত উল্যাহ বলেন, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার বিষয়টিকে জটিল করে তুলেছেন। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। এরফলে অসন্তোষ বড় আকার ধারণ করেছে। তিনি পরিবহন ও সেতু  মন্ত্রী,  স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
 
খুলনা বিভাগীয় মালিক-ঐক্য পরিষদের যুগ্ম -আহবায়ক আজিজুল আলম মিন্টু বলেন,  গত চারদিন ধরে চলছে পরিবহন ধর্মঘট। চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে  হাজার হাজার যাত্রী। কিন্তু বিষয়টি আলোচনা বা সমাধানের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
 
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক সাদেক হোসেন বলেন, ঘটনার পর তারা ফরিদপুর পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কিন্তু পুলিশ সুপার তাদের সঙ্গে দুর্বব্যবহার করেন।