সমুদ্র পথে যারা পাচার হচ্ছেন তারা অর্থনৈতিক অভিবাসনের শিকার। এর মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক হতদরিদ্র মানুষগুলোর অসহায়ত্বের চিত্র ফুটে উঠেছে। যা জাতি হিসেবে আমাদের দৈন্যদশার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ভোরের কাগজ ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির যৌথ আয়োজনে ‘মানবপাচার রোধে করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিলে বক্তারা এসব কথা বলেন।
গোলটেবিলে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান ও জনশক্তি রপ্তানি বিশ্লেষক হাসান আহম্মেদ চৌধুরী কিরণ। দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় গোলটেবিল অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
মূল প্রবন্ধে হাসান আহম্মেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, একটি স্বার্থবাদীগোষ্ঠী মানবপাচারের মাধ্যমে দেশের হতদরিদ্র মানুষগুলোকে পণ্য করে মুক্তিপণ আদায়সহ হত্যার মাধ্যমে অমানবিক, অসহায়ত্ব, ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটাচ্ছে। মানবপাচারকারীদের টার্গেট হচ্ছে দারিদ্রপীড়িত, সুবিধাবঞ্চিত, পশ্চাৎপদ ও অনগ্রসর এলাকার লোকজন। নিজের দেশে জীবন-জীবিকার কোন উপায় না থাকায় শুধু বেঁচে থাকার তাগিদে তারা বিপজ্জনক পথে পাড়ি জমায় বিদেশে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে অবৈধ পথে ভাগ্য পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে পাচারকৃত এই মানবের অধিকাংশই মৃত্যুমুখে পতিত হয়। অথবা সব কিছু হারিয়ে কোনো আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাই নেয় কিংবা দেশে ফিরে আসে।
মানবপাচারের মতো এরকম ঘটনার দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই সরকারের। রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মানবপাচারকারী দুর্বৃত্তরা যেনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে না যায় সেদিকে সরকারের কঠোর নজর দেওয়া উচিত।
শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, অবৈধভাবে সমুদ্র কিংবা স্থল পথে যাতে মানব পাচার না হয় সেজন্য সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি মানব পাচার রোধে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, পাচারকারীরা মুনাফার জন্য মানুষগুলোকে ওয়ান টাইম হিসেবে ব্যবহার করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এসব মানুষ অর্থনৈতিক অভিবাসনের শিকার।
তিনি বলেন, ভারত সরকার গরু পাচার রোধে যতটা সোচ্চার, আমাদের সরকার মানুষ পাচারে সেই পরিমাণে সোচ্চার নয়। মানুষকে তারা গুরু-ছাগল মনে করে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পাচারের শিকারের পর জীবন নিয়ে ফিরে আসা রাজবাড়ীর ধীরাজ কুমার বিশ্বাস, রামরু’র রিসার্চ ফেলো ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার, বোমচার পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।