ভাড়াটিয়া সেজে গৃহকর্তার মেয়েকে হত্যা করে ডাকাতি

রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে ভাড়াটিয়া সেজে গৃহকর্তার মেয়ে সৈয়দা সাবেকুন নাহার নিগারকে (৩৫) শ্বাসরোধে হত্যা এবং স্বর্ণালঙ্কার ও টাকাসহ অন্যান্য মালপত্র লুট করেছে ডাকাতরা। শুক্রবার রাতে উত্তর যাত্রাবাড়ির রজনীগন্ধা সড়কের ৭৬/১/এল/১৩ নম্বর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে গভীর রাতে পুলিশ হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) মর্গে পাঠায়। গতকাল শনিবার পর্যন্ত এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার বা লুণ্ঠিত মালপত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

 
নিহতের ভগ্নিপতি জসীম উদ্দিন খান বলেন, বাড়ির দোতলায় থাকেন তার শ্বশুর এস এম কামরুজ্জামান, শাশুড়ি তহুরা খাতুন ও শ্যালিকা নিগার। তিনতলা বাসার তৃতীয় ও প্রথম তলায় ভাড়াটেরা থাকেন। বৃহস্পতিবার দুই যুবক গিয়ে তহুরা খাতুনের সঙ্গে দেখা করে তাদের নিচতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিতে চায়। ১ জুন থেকে বাসায় ওঠার কথা বলে তারা তিন হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে যায়। এরপর থাকার সমস্যার কথা বলে ঐ দিনই তারা কিছু পুরনো বই, ব্যাগ ও কাঁথা-কম্বল নিয়ে বাসায় উঠে যায়। শুক্রবার দিনভর তারা বাসার বাইরে থাকে।
 
রাত ১০টার দিকে ঐ দুইজন দোতলায় গিয়ে দরজায় করাঘাত করেন। এ সময় সৈয়দা সাবেকুন নাহার নিগার দরজা খুলে দুই ভাড়াটেকে দেখেন। কোথায় থেকে বিদ্যুতের লাইন নেবে-এ কথা বলতে বলতেই তারা তহুরা ও নিগারকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে। তাদের পেছন পেছন ঢুকে পড়ে আরও ছয়-সাতজন। তাদের হাতে ছিল চাপাতি, রশি ও স্কচ টেপ। ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তারা সবাইকে চুপ থাকতে বলে। প্রথমেই তহুরাকে রশি দিয়ে বেঁধে মুখে স্কচ টেপ লাগিয়ে দেয়। এরপর নিগারকেও পাশের একটি ঘরে নিয়ে হাত-পা বেঁধে মুখ স্কচ টেপ দিয়ে আটকে দেয়া হয়। নিগার ভয়ে চিত্কার করলে ডাকাতরা তার গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস দেয়। তার শরীর নিথর হয়ে এলে তাকে কম্বলে মুড়ে রাখে। এরপর তারা বাসার জিনিসপত্র ওলট-পালট করে নগদ ৮৫ হাজার টাকা, সাত ভরি স্বর্ণালঙ্কার, দুইটি ল্যাপটপ, একটি আইপ্যাড, চারটি মোবাইল ফোনসহ দামী জিনিসপত্র নিয়ে যায়। এ সময় অসুস্থ গৃহকর্তা এসএম কামরুজ্জামানকেও অস্ত্রের মুখে চুপ থাকতে বাধ্য করা হয়। খবর পেয়ে মধ্যরাতে জসীম উদ্দিন খান ওয়ারী থেকে শ্বশুরবাড়িতে যান। এর আগেই কম্বলের ভেতরে নিগারকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। গভীর রাতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে।
 

যাত্রাবাড়ি থানার ওসি বলেন, ডাকাতির খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীরা এখনও কোনো মামলা করেননি। তবে পুলিশ জড়িতদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।