বাজেটে বিশেষ তহবিলের প্রস্তাব আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের

দেশের আবাসন শিল্প রক্ষায় চলমান মন্দা অবস্থা কাটাতে আসন্ন বাজেটে ‘হাউজিং লোন’ নামে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। 
 
কারণ সরকারি সহায়তা ছাড়া আবাসন খাতের ব্যবসায় চলমান চরম মন্দা কাটবে না বলে জানিয়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ী নেতারা। 
 
এ ছাড়া ১৫শ’ বর্গফুট আয়তনের বা এর চেয়ে ছোট ফ্ল্যাট ক্রয়ে ক্রেতাদের ৭ থেকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদান, ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনে বিদ্যমান গেইন ট্যাক্স, স্ট্যাম্প ফি ও মূল্য সংযোজন কমিয়ে অর্ধেকে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে।
 
গতকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি আলমগীর শামছুল আলামিন। এছাড়া আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে কর সুবিধা ও নগদ প্রণোদনা প্রদানসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে আরও তিনটি সংগঠানের নেতারা সাক্ষাৎ করেছেন। 
 
সংগঠন তিনটি হচ্ছে ‘বাংলাদেশ সিরামিক ওয়্যারস ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন’, ‘বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন’, ‘বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন’।
 
রিহ্যাব সভাপতি বলেন, বিশেষ তহবিল গঠনের মাধ্যমে ক্রেতাদের সিঙ্গেল ডিজেটে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ সরকারি সহায়তা ছাড়া আবাসন খাতের ব্যবসায় চলমান চরম মন্দা কাটবে না। আর শুধু রাজধানীতেই প্রায় ১০ হাজার ফ্ল্যাট অবিক্রীত রয়েছে বলে উল্লে করেন তিনি।
 
বৈধভাবে উপার্জিত অপ্রদর্শিত অর্থ কোন প্রশ্ন ব্যতিরেকে ভবন বা অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার দাবি জানান তিনি। এছাড়া এনবিআরের আওতাধীন রেজিষ্ট্রেশন সংশি¬ষ্ট কর যথাক্রমে, গেইন ট্যাক্স ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ,ষ্ট্র্যাম্প ফি ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্য সংযোজন কর ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন তিনি। আর সকল ভবনে অগ্নি নিরাপত্তার জন্য আগামী ৫ বছর অগ্নি-নির্বাপক যন্ত্র ও উপকরণ আমদানি শুল্কমুক্ত রাখারও প্রস্তাব করেছেন  তিনি।
 
এদিকে আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে বাজেটে অন্তর্ভূক্তির জন্য চার দফা সুপারিশ করেছেন বাংলাদেশ সিরামিক ওয়্যারস ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন নেতারা। তাদের দাবির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এতদিনেও যদি আপনারা সক্ষমতা অর্জন করতে না পারেন তাহলে কীভাবে হবে?’
 
অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সিরামিক এসোসিয়েশরেনর নেতারা বলেন, তাদের উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান আন্তর্জাতিক মানের হলেও দামের প্রতিযোগিতায় তারা টিকতে পারছেন না। তাছাড়া ‘দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেয়া হবে’ সরকারের এ প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতেই উদ্যোক্তরা শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।
 
এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমদানিকৃত পণ্যের ওপর সম্পূরক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করাটাই হচ্ছে সর্বোচ্চ সুরক্ষা প্রদান। কিন্তু আগামীতে এটা কমবেই। কতটা কমানো হবে সেটা বলা যাচ্ছে না। তবে ধীরে ধীরে কমানো হবে বলে জানান তিনি।
 
আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের ফার্নিচার রফতানির বিপরীতে বিকল্প নগদ সহায়তা চেয়েছেন ‘বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন’র নেতারা। অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় সংগঠনের সভাপতি কে এম আকতারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
 
অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতকালে ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা বলেন, রফতানি বিপরীতে আমরা ‘ডিউটি ড্র ব্যাক’ (আমদানিকৃত কাঁচামালের বিপরীতে প্রদত্ত শুল্ক ফেরত) সুবিধা পেয়ে থাকি। কিন্তু এটা পেতে অনেক ঝামেলা হয়।  বিকল্প নগদ সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব দেন তারা।
 
গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের ৯ দফা দাবি : আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে ইউপি জারির দায়িত্ব এসোসিয়েশনের ওপর অর্পন ও রফতানিতে নগদ সহায়তা প্রদানসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছেন ‘বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন’ নেতারা।
 
তাদের দাবির প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী ইতিপূর্বে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউপি জারি সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন এবং নগদ প্রণোদনা প্রদানের বিষয়টি বাজেটের পর পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।