পরিবহন ধর্মঘটে দুর্ভোগে যাত্রীরা

টানা ছয়দিন ধরে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভারতে ফেরত যাওয়া যাত্রীরা। একইভাবে ভোগান্তিতে পড়েছেন ভারতের ভিসা পাওয়া যাত্রীরাও। এদিকে, অব্যাহত পরিবহন ধর্মঘটে নাকাল সাধারণ মানুষ। দূরপাল্লার যাত্রায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। পরিবহন ধর্মঘটের ফলে ভিড় বেড়েছে ট্রেনে। তবে ট্রেনের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী হওয়ায় হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ট্রেনে আসন বিহীন টিকেটে বিপুল সংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করছেন। ঢাকা ও উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সোহাগ পরিবহনের গ্রেফতারকৃত চালক ও হেলপারদের মুক্তি, পরিবহনে ডাকাতির ঘটনায় মামলা না নিয়ে হয়রানি এবং ফরিদপুরের পুলিশ সুপার ও মধুখালি থানার ওসির প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে চতুর্থ দিনের মত খুলনা বিভাগে পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে।

 
গতকাল রবিবার সকালে ভারত থেকে ফিরে আসা সাভারের হেমায়েতপুরের পাসপোর্টধারী যাত্রী লিয়াকত আলী ১৪ হাজার টাকায় একটি গাড়ি ভাড়া নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগ মুহূর্তে এ প্রতিনিধিকে বলেন, গত ৬ দিন পরিবহন ধর্মঘটে অচল অবস্থার সৃষ্টি হলেও কর্তৃপক্ষের নজর না দেয়াটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
 
 স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিষয়টি সুষ্ঠু ও সন্তোষজনক সমাধানের জন্য আজ সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের অফিসে বৈঠক হবে। একই তথ্য জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আজ সোমবার বিকাল তিনটায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হবে। আশা করা হচ্ছে, এ বৈঠকে একটা সমাধানে আশা সম্ভব হবে।
 
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল আলম মিন্টু বলেন, তাদের দাবি, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার ও মধুখালী থানার ওসির বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে রাতের বেলা সড়কে পরিবহন চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই দাবিতে তাদের ধর্মঘট চলছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তিনি বলেন, সোমবার নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের মাধ্যমে আমাদেরকে (শ্রমিক মালিক) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে আলোচনার আহবান করা হয়েছে। মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে পরিবহন মালিক শ্রমিকরা মিটিং করবেন। এরপর সিদ্ধান্ত হবে ধর্মঘট চলবে, কী চলবে না।
 
বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা জানান, সোহাগ পরিবহনের একজন গাড়ি চালকের আটকের ঘটনায় গত ৬ দিনের পরিবহন ধর্মঘটের সুরাহা হয়নি। ফলে বেনাপোলে যাত্রীরা বেশ দুর্ভোগে পড়ছেন। প্রতিদিন ভারত থেকে   ফিরে আসা হাজার হাজার যাত্রী বাসে টিকিট না পেয়ে বিকল্পভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিরে যাচ্ছে। অসহায় এ সব যাত্রীদের জিম্মি করে এক শ্রেণির ট্যাক্সি ও মাইক্রোবাস চালক হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। জনপ্রতি প্রায় ৩ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে ঢাকার ভাড়া। অথচ বাসের এ দূরত্বের ভাড়া মাত্র ৫‘শ টাকা। অনেকের কাছে টাকা না থাকায় বাড়ি ফেরার জন্য কম মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল। কবে নাগাদ পরিবহন চলাচল শুরু হবে স্পষ্ট করে বলছে না এখানকার পরিবহন শ্রমিকরা। ফলে অনিশ্চিত এ ধর্মঘট নিয়ে বিভ্রান্তিতে আছে যাত্রীসাধারণ।
 
ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার
 
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে গতকাল রবিবার বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে মাওয়া বাস মালিক কল্যাণ সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক ফেডারেশন শ্রমিক ইউনিয়ন। শিমুলিয়া ঘাটে বাস প্রতি ৪০ টাকা টোল আদায় ও স্বাধীন নামে একটি পরিবহনকে ‘নিয়মনীতি না মেনে’ চলাচলের অনুমতি দেয়ার প্রতিবাদে এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে চলাচলরত বাস মালিকরা।
 

স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির সাথে গত শনিবার মধ্যরাতে বাস মালিক শ্রমিকদের সাথে আলোচনার পর ধর্মঘট প্রতাহার করা হয়। এ ব্যাপারে পরবর্তীতে আলোচনা করে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে জানিয়েছেন বাস মালিক নেতা গোলাম গাউস। সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি জানান, বাস মালিকদের সাথে আলাপ হয়েছে। তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ইজারাটি যেহেতু সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নেয়া হয়েছে, তাই উচ্চ মহলে আলাপ করে এ ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।