দেশে সোয়াইন ফ্লু শনাক্ত, চাই জরুরি পদক্ষেপ

এবার রাজধানী ঢাকার একটি বড় প্রাইভেট হাসপাতালে মারাত্মক সংক্রমক ব্যাধি সোয়াইন ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে বলা হয়, আক্রান্ত ১ জন ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। অন্যজনের চিকিত্সা চলছে। এছাড়া গত এপ্রিল মাসে এবং চলতি মে মাসে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সোয়াইন ফ্লুর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। এ ব্যাপারে মহাখালীস্থ রোগ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা:মাহমুদুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, দেশে এখন সোয়াইন ফ্লুর মৌসুম চলছে। এপ্রিল থেকে জুলাই, আগস্ট পর্যন্ত সোয়াইন ফ্লুর মৌসুম।

 

তিনি জানান, গত এপ্রিল মাসে ইনফ্লুয়েনজায় আক্রান্ত দুইশ’ জনের রক্তের নমুনা পরীক্ষয় ৬ জনের দেহে সোয়াইন ফ্লুর জীবাণু ধরা পড়ে। আর মে মাসে ইতোমধ্যে ৬ জন সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছে বলে শনাক্ত হয়েছে। তবে আইইডিসিআর এর পরিচালক মনে করেন, বাংলাদেশে সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্তের হার উদ্বেগজনক নয়। তাছাড়া বাংলাদেশে আক্রান্তদের কেউ মারা যায়নি বলে তিনি জানান।

 
এদিকে এইচ১এন১ ভাইরাস দ্বারা মারাত্মক সংক্রামক সোয়াইন ফ্লু সংক্রমিত হচ্ছে। যেহেতু এটা এক ধরনের ভাইরাস রোগ তাই এর কোন সুনির্দিষ্ট চিকিত্সা নেই। রোগের লক্ষণ ও জটিলতা অনুসারে চিকিত্সা দেয়ার প্রয়োজন হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচ১এন১ ভাইরাস প্রতিরোধে ভ্যাকসিন দেয়া হলে এই রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা যায়। তবে আশার কথা, দেশেই এখন সোয়াইন ফ্লুর ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে। দেশের অন্যতম ওষুধ কোম্পানি ইনসেপ্টা ইনফ্লুভ্যাক্স নামে এই ভ্যাকসিন উত্পাদন করছে। এ ছাড়া দু’টি বিদেশি কোম্পানির সোয়াইন ফ্লুর ভ্যাকসিনও পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে আইইডিসিআর এর পরিচালক অধ্যাপক ডা:মাহমুদুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, যাদের সামর্থ্য আছে তাদের ভ্যাকসিন দেয়া উচিত।
 

এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, সোয়াইন ফ্লু ও সাধারণ ইনফ্লুয়েনজার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। রোগীর সর্দি, কাশি, জ্বর গলাব্যথা, শরীর ব্যথা থাকতে পারে। কোন চিকিত্সা ছাড়াই ৫/৭ দিনের  মধ্যে রোগী ভালো হয়ে যায়। তবে জটিলতা দেখা দিলে অথবা ফুসফুসে সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে এন্টিভাইরাল ওষুধ চিকিত্সায় সহায়ক হয়। তবে শিশু, গর্ভবতী মহিলা ও বয়স্কদের জটিলতা বেশি হয়। এ ছাড়া কারও ইনফ্লুয়েনজা হলে সাবান দিয়ে বারবার হাত ধুতে হবে। এ ছাড়া সন্দেহ হলে পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে।

 

তবে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, সোয়াইন ফ্লু সংক্রমণের বিষয়টি হালকাভাবে দেখা উচিত নয়। এখনই স্বাস্থ্য বিভাগের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। সম্প্রতি সময়ে সোয়াইন ফ্লুতে ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রায় ১৩ হাজার আক্রান্ত হয় এবং তন্মধ্যে ৮ শতাধিক লোকের মৃত্যু ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সোয়াইন ফ্লুর সংক্রমণে বাংলাদেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া ধারণা করা হচ্ছে, প্রকৃত পক্ষে সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্তের সংখ্যা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্যের চেয়েও অনেক বেশি।