ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক ও কাহিনীকার মিঠুন (আবুল কাশেম) রবিবার রাতে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না... রাজিউন)। মৃতুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে, নাতি-নাতনি, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সোমবার বিকেলে ভারতের বেনাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে তার মরদেহ আসবে। মরদেহ গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার দুর্গাপুরে নেয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে পিতা শেখ আবুল হোসেনের কবরের পাশে দাফন দেয়ার কথা রয়েছে।
তিনি গত ১১ মে সোমবার অসুস্থ মা হাফেজা খাতুনকে দেখতে খুলনার নিরালায় আসেন। বুধবার তিনি নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে খুলনায় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। সেখানে সোমবার পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার আরো অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৯ মে মঙ্গলবার সকালে তাকে ভারতে পাঠানো হয়। সেখানে প্রথমে বিশিষ্ট কার্ডিয়াক সার্জন প্রফেসর ডাঃ পিবি শুকলা এবং পরবর্তীতে কোঠারী হাসপাতালের বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ শেখ শামীমুল হকের অধীনে তিনি চিকিৎসা নেন। অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয। রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
চিকিৎসকরা জানান, শেখ আবুল কাশেম মিঠুন কিডনি, লিভার, হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন।
শেখ আবুল কাশেম মিঠুন ১৯৫১ সালের ১৮ এপ্রিল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি ১৯৭৮ সালে খুলনা থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিকে লেখালেখির মধ্যদিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন। এরপর তিনি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। পর্যায়ক্রমে তিনি তরুলতা, চ্যালেঞ্জ, নরম গরম, গৃহলক্ষী, চন্দনা, ডাকু, স্বর্গ-নরক, দিদার, স্যারেন্ডার, বাবা কেন চাকর, বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না ইত্যাদি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।