মানবতাবিরোধী অপরাধ: হবিগঞ্জে তিন জনের বিষয়ে আদেশ ৩১ মে

 
 
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হবিগেঞ্জ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়া হবে কি-না সে বিষয়ে আগামী ৩১ মে আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে। 
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল সোমবার এ আদেশ দেয়। 
 
জেলার খাগাউড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া, তার ছোট ভাই বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়া ও তাদের চাচাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে এ আদেশ দেয়া হবে।
 
 প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ চারটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
 
গত ৩০ এপ্রিল একই মামলার আসামি দুই ভাই বড় মিয়া ও আঙ্গুর মিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে প্রসিকিউশন। সে সময় এ মামলার তদন্তকালে আব্দুর রাজ্জাকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন পেশ করা হয়। আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। 
 
গত ১৯ মে মৌলভীবাজার জেলা সদরের আতানগিরি এলাকা থেকে আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন ২০ মে তাকে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠিয়ে দেয় ট্রাইব্যুনাল-২।
 
এর আগে আসামিদের বিরুদ্ধে গত ২৯ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তদন্ত সংস্থা। গত ১২ ফেব্রুয়ারি মাহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া ও তার ছোট ভাই মুজিবুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়াকে কারাগারে প্রেরণ করে ট্রাইব্যুনাল। 
 
 মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি দুই সহোদরকে এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করা হয়। 
 
২০০৯ সালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকল মিয়ার স্ত্রী ভিংরাজ বিবি হবিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মহিবুর রহমান বড় মিয়া ও মজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়ার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। 
 
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ২৫ কার্যদিবসের মধ্যে বানিয়াচং থানা পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। পরে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। গত বছরের ২৬ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা হবিগঞ্জে সরেজমিন তদন্তে আসেন। তদন্তে ২১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।