কলেজ শিক্ষককে লাঞ্ছিত করায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলামকে তলব করেছে হাইকোর্ট। 'একজন সহকারী অধ্যাপককে তিনি পা ধরে মাফ চাইতে ব্যাধ করেছেন' এমন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আগামী ১৫ জুন সকাল সাড়ে ১০ টায় আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে তাকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন।
এছাড়াও এ ধরনের শাস্তির ঘটনা কেন অবৈধ ঘোষণা এবং ওই ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদেরকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
‘সহকারী অধ্যাপককে পা ধরে মাফ চাইতে বাধ্য করলেন ম্যাজিস্ট্রেট’ শীর্ষক শিরোনামে একটি প্রতিবেদন দেশের বিভিন্ন জাতীয় জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়, গত ৯ এপ্রিল এইচএসসি ইংরেজি ১মপত্র পরীক্ষা চলাকালীন পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে প্রধান প্রত্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্বপালন করছিলেন শিক্ষা ক্যাডারের সদস্য মোনতাজ উদ্দিন। এক পর্যায়ে সেলফোনে কথা বলতে বলতে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম। এ সময় প্রধান প্রত্যবেক্ষক তার পরিচয় জানতে চাইলে ক্ষেপে যান আশরাফুল ইসলাম। এ নিয়ে দু'জনের মধ্যে কিছুক্ষণ বাকবিতণ্ডা চলে। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনির হোসেন হাওলাদার ও পুলিশ ডেকে পাঠান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা প্রকাশ্যে সহকারী অধ্যাপক মোনতাজ উদ্দিনকে ম্যাজিস্ট্রেটের পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন।
শিক্ষকের মাফ চাওয়ার এই ছবি স্থানীয় কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সারাদেশে কর্মরত শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে এ ঘটনায় ওই ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন মোনতাজউদ্দিন। তার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. সাইমুম সাদী। শুনানি শেষে হাইকোর্ট তলবের আদেশ দেয়।