সাত দিন পর সোমবার খুলনা বিভাগে ডাকা বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারের সঙ্গে মালিক -শ্রমিকদের বৈঠকে সমঝোতা হবার পর এ সিন্ধান্ত নেয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে থাকবেন একজন অতিরিক্ত ডিআইজিও পরিবহনের দু’জন সদস্য।
অপর দিকে মধুখালিতে থানায় শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সিআইডিতে ন্যস্ত করা হয়েছে।
সোহাগ পরিবহনের আটক চালক ও হেলপারদের মুক্তি, পরিবহনে ডাকাতির ঘটনায় মামলা এবং মামলা না নিয়ে হয়রানি করা এবং ফরিদপুরের পুলিশ সুপার ও মধুখালি থানার ওসির প্রত্যাহারের দাবিতে খুলনা বিভাগীয় মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এ ধর্মঘটের ডাক দেয়। ধর্মঘটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার বাস যাত্রী।
বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুষ্ঠিত এ সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জান খাঁন কামাল, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, বাস ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশন সভাপতি ও সোহাগ পরিবহনের এমডি ফারুক তালুকদার সোহেল, বাংলাদেশ পরিবহন সংস্থা যশোরের সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু,পুলিশের ভার প্রাপ্ত আইজি মোখলেসুর রহমান, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ঢাকা ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামানের, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার জামিল হাসান প্রমুখ।
বৈঠক সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, দু’পক্ষের আলোচনা প্রেক্ষিতে মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে। পরিবহন মালিক - শ্রমিকদের অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পরই এ ব্যাপারে সিন্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, মধুখালি থানায় চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত সিআইডিতে ন্যস্ত করা হয়েছে। আটক শ্রমিকদের জামিন পাওয়ার বিষয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটাতো বিচারিক প্রক্রিয়া।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, দু’পক্ষের মধ্যে ফলপ্রস্যু আলোচনা হয়েছে। এরপরই ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত কমিটির আলোকেই অভিযুক্তদের ব্যাপারে সিন্ধান্ত নেয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।